ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

ভারতের রামমন্দিরে বিশাল চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন

ভারতের অযোধ্যার রামমন্দিরে দানবাক্স থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় দেশটির পুলিশ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে। তদন্তে জানা গেছে, চুরির সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত ‘কুম্ভমেলা’র সময়।

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া আট অভিযুক্তের কয়েকজন কুম্ভমেলার আগেও ছোটখাটো চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। কিন্তু কুম্ভমেলার সময় মন্দিরে ভক্তদের বিপুল সমাগম হয় এবং দান ও অর্ঘ্যের পরিমাণ এক লাফে অনেক বেড়ে যায়। অভিযুক্তরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ করে একটি বড় ধরনের চুরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।

এই ঘটনায় গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন—অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লব কুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পান্ডে, রমাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু যাদব। পুলিশের দাবি, এই আটজন মিলেই পুরো চুরির ষড়যন্ত্রটি তৈরি করেছিল।

তদন্তে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুই ভায়রা-ভাই—লব কুশ মিশ্র এবং অনুকল্প মিশ্র সবচেয়ে বড় অঙ্কের টাকা চুরি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, চুরির সেই অর্থ দিয়ে তারা বিপুল সম্পত্তিও কিনেছেন। ইতিমধ্যেই এই দুইজনের নামে থাকা প্রায় আধ ডজনেরও বেশি সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।

অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তির খতিয়ান খতিয়ে দেখতে আয়কর বিভাগের সাহায্য নিচ্ছে অযোধ্যা পুলিশ। একই সাথে, এই চুরির টাকার উৎস এবং আর্থিক লেনদেনের গভীর তদন্তের জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকেও (ইডি) চিঠি দেওয়া হচ্ছে।

রাম মন্দিরের নগদ অনুদান গণনার দায়িত্ব স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ওপর ন্যস্ত। ব্যাংকটি এর জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে নিয়োজিত করেছে। মন্দিরের ৪টি দানবাক্সের টাকা ১১ জন ব্যাংক কর্মী এবং মন্দির ট্রাস্টের ৩ জন প্রতিনিধি—মোট ১৪ জনের একটি দলের উপস্থিতিতে গণনা করা হয়। তদন্তের মুখে এখন কয়েকজন এসবিআই কর্মীর ভূমিকাও সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। পুলিশ জানায়, অন্যতম অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লার কৌশালপুরীর আস্তানা থেকে সবচেয়ে বেশি নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। জায়গাটি অবিনাশের ভাই অভিষেকের একটি যোগব্যায়াম কেন্দ্র।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে উত্তেজনা: পাকিস্তানে আফগানিস্তানের ড্রোন হামলা, ৪টি ভূপাতিত করার দাবি

ভারতের রামমন্দিরে বিশাল চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন

আপডেট সময় : ০৩:০৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ভারতের অযোধ্যার রামমন্দিরে দানবাক্স থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় দেশটির পুলিশ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে। তদন্তে জানা গেছে, চুরির সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত ‘কুম্ভমেলা’র সময়।

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া আট অভিযুক্তের কয়েকজন কুম্ভমেলার আগেও ছোটখাটো চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। কিন্তু কুম্ভমেলার সময় মন্দিরে ভক্তদের বিপুল সমাগম হয় এবং দান ও অর্ঘ্যের পরিমাণ এক লাফে অনেক বেড়ে যায়। অভিযুক্তরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ করে একটি বড় ধরনের চুরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।

এই ঘটনায় গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন—অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লব কুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পান্ডে, রমাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু যাদব। পুলিশের দাবি, এই আটজন মিলেই পুরো চুরির ষড়যন্ত্রটি তৈরি করেছিল।

তদন্তে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুই ভায়রা-ভাই—লব কুশ মিশ্র এবং অনুকল্প মিশ্র সবচেয়ে বড় অঙ্কের টাকা চুরি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, চুরির সেই অর্থ দিয়ে তারা বিপুল সম্পত্তিও কিনেছেন। ইতিমধ্যেই এই দুইজনের নামে থাকা প্রায় আধ ডজনেরও বেশি সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।

অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তির খতিয়ান খতিয়ে দেখতে আয়কর বিভাগের সাহায্য নিচ্ছে অযোধ্যা পুলিশ। একই সাথে, এই চুরির টাকার উৎস এবং আর্থিক লেনদেনের গভীর তদন্তের জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকেও (ইডি) চিঠি দেওয়া হচ্ছে।

রাম মন্দিরের নগদ অনুদান গণনার দায়িত্ব স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ওপর ন্যস্ত। ব্যাংকটি এর জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে নিয়োজিত করেছে। মন্দিরের ৪টি দানবাক্সের টাকা ১১ জন ব্যাংক কর্মী এবং মন্দির ট্রাস্টের ৩ জন প্রতিনিধি—মোট ১৪ জনের একটি দলের উপস্থিতিতে গণনা করা হয়। তদন্তের মুখে এখন কয়েকজন এসবিআই কর্মীর ভূমিকাও সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। পুলিশ জানায়, অন্যতম অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লার কৌশালপুরীর আস্তানা থেকে সবচেয়ে বেশি নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। জায়গাটি অবিনাশের ভাই অভিষেকের একটি যোগব্যায়াম কেন্দ্র।