অর্থনৈতিক সংকট ও অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগের মুখে অবশেষে বন্ধ হয়ে গেছে ফরচুন গ্রুপের আনান সুজ কোম্পানি। গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি লোকসানের কারণ দেখিয়ে সম্প্রতি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে তিন শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়েছেন; যাদের অনেকেই চাকরি ছেড়েছেন, আবার অনেককে ফরচুন গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
মালিকপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলসি জটিলতা, উৎপাদন ও রপ্তানি বন্ধের কারণে নিয়মিত লোকসান এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থাই এই কোম্পানি বন্ধের মূল কারণ। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার করার কারণেই প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে।
জানা গেছে, ফরচুন গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীসহ গত তিন বছর ধরে কানাডায় বসবাস করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অবৈধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন, যা কোম্পানির বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী।
প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অবস্থা আরও করুণ। বছরের পর বছর মুনাফা করলেও কর্মীদের বেতন-ভাতা বাড়েনি। বরং, অনেক কর্মকর্তা পাঁচ মাস ধরে বেতন পাননি, সুপারভাইজারদের চার মাস এবং সাধারণ কর্মীদের দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে ধার-দেনা করে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। তবে চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। ২০১২ সালে বরিশালে ৪৭২ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করা ফরচুন সুজ ১৪ বছরের ব্যবধানে ফরচুন গ্রুপে পরিণত হয়েছিল। বর্তমানে ফরচুন গ্রুপের বরিশালে তিনটি ও ঢাকায় চারটিসহ মোট সাতটি সুজ কোম্পানি চালু রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















