ঢাকা ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে বসতবাড়ি, ফসলী জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে চরাঞ্চলের পাকা সড়ক, বসতভিটা, ফসলী জমি, গাছপালা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে শত শত ঘরবাড়ি ও ফসলী জমি। ভাঙনের আশঙ্কায় নদী পাড়ের মানুষের মধ্যে বাঁধ ভাঙার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বড় কয়ড়া, বর্নি, কৈগাড়ি জড়তা এবং কাজীপুর উপজেলার চর গিরিশ, নাটুয়াপাড়া ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। ভাঙন থেকে মাত্র ১৫০ মিটার দূরে রয়েছে পশ্চিম চর গিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফ্লাট সেন্টার। এই পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত পশ্চিম চর গিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিনে কাজীপুর উপজেলার চর গিরিশ, নাটুয়াপাড়া ও নিশ্চিন্তপুর এলাকার প্রায় দুই শতাধিক বাড়ি-ঘর এবং ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়ি-ঘর হারানো এসব পরিবারের তালিকা করে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন কাজীপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত রাবেয়া খাতুন জানান, পাঁচ-সাত বছর আগে একবার ভাঙনের শিকার হয়েছিলেন। মাত্র তিন দিন হলো আবার ভাঙনের মুখে পড়েছেন। বাড়ি-ঘর হারিয়ে তিনি এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। আরেক ক্ষতিগ্রস্ত জাফর হোসেন বলেন, নদী ভাঙছে কিন্তু কেউ দেখতে আসছে না। মুহূর্তে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকে ঘর সরিয়ে নিতে পারলেও অনেকের বাড়িঘর নদী গ্রাস করেছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানিয়েছেন, নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে এলাকায় ৯ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর মেঘাইঘাট পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে পানি বাড়লেও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩৯ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর পয়েন্টে বিপদ সীমার ১৮৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধে কাজ করছে।

কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কাজীপুরে বিভিন্ন পয়েন্টে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং বসতবাড়ি ভেঙে যাচ্ছে। ভাঙনের মুখে থাকা পশ্চিম চর গিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩০-৩৫ জনের নাম পাওয়া গেছে যাদের বাড়িঘর যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে এবং তাদের তালিকা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি পেল ১১ জুলাই

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে বসতবাড়ি, ফসলী জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন

আপডেট সময় : ০৮:০৬:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে চরাঞ্চলের পাকা সড়ক, বসতভিটা, ফসলী জমি, গাছপালা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে শত শত ঘরবাড়ি ও ফসলী জমি। ভাঙনের আশঙ্কায় নদী পাড়ের মানুষের মধ্যে বাঁধ ভাঙার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বড় কয়ড়া, বর্নি, কৈগাড়ি জড়তা এবং কাজীপুর উপজেলার চর গিরিশ, নাটুয়াপাড়া ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। ভাঙন থেকে মাত্র ১৫০ মিটার দূরে রয়েছে পশ্চিম চর গিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফ্লাট সেন্টার। এই পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত পশ্চিম চর গিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিনে কাজীপুর উপজেলার চর গিরিশ, নাটুয়াপাড়া ও নিশ্চিন্তপুর এলাকার প্রায় দুই শতাধিক বাড়ি-ঘর এবং ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়ি-ঘর হারানো এসব পরিবারের তালিকা করে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন কাজীপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত রাবেয়া খাতুন জানান, পাঁচ-সাত বছর আগে একবার ভাঙনের শিকার হয়েছিলেন। মাত্র তিন দিন হলো আবার ভাঙনের মুখে পড়েছেন। বাড়ি-ঘর হারিয়ে তিনি এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। আরেক ক্ষতিগ্রস্ত জাফর হোসেন বলেন, নদী ভাঙছে কিন্তু কেউ দেখতে আসছে না। মুহূর্তে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকে ঘর সরিয়ে নিতে পারলেও অনেকের বাড়িঘর নদী গ্রাস করেছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানিয়েছেন, নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে এলাকায় ৯ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর মেঘাইঘাট পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে পানি বাড়লেও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩৯ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর পয়েন্টে বিপদ সীমার ১৮৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধে কাজ করছে।

কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কাজীপুরে বিভিন্ন পয়েন্টে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং বসতবাড়ি ভেঙে যাচ্ছে। ভাঙনের মুখে থাকা পশ্চিম চর গিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩০-৩৫ জনের নাম পাওয়া গেছে যাদের বাড়িঘর যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে এবং তাদের তালিকা করা হচ্ছে।