স্ক্যান্ডিনেভিয়া থেকে আল্পস পর্বতমালা পর্যন্ত ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভয়াবহ দাবদাহে পুড়ছে। এই তীব্র গরমের কারণে ইতোমধ্যে অন্তত ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং দাবদাহ পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। কিছু কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে সব পূর্বের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
গত শনিবার জার্মানি, ডেনমার্ক ও চেক প্রজাতন্ত্রে সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার প্রাথমিক রেকর্ড তৈরি হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে ভেঙেছে জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যেও একই ধরনের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এই শ্বাসরুদ্ধকর দাবদাহ প্রায় অসম্ভব ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই দুই দশক আগের তুলনায় চলতি সপ্তাহে রাতের তাপমাত্রা ১০০ গুণ বেশি সম্ভাব্য হয়ে উঠেছে।
জার্মানির ফেডারেল আইনপ্রণেতা এবং গ্রিন পার্টির সাবেক সংসদীয় দলনেতা ক্যাট্রিন গোয়ারিং-একার্ড এক্সে লিখেছেন, ‘এই গরম কোনো মনোরম গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া নয়, এটি একটি স্বাস্থ্য সংকট।’ শনিবার বার্লিনের তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে সেখানকার পুলিশ সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে দুটি জলকামান দিয়ে হালকা পানি স্প্রে করে।
জার্মানির আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-অ্যানহাল্টের মকার্ন-ড্রেউইটজে শনিবার সর্বোচ্চ ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নতুন প্রাথমিক রেকর্ড হয়েছে। এটি তার আগের দিন ফ্রান্স সীমান্তবর্তী সারব্রুকেনের কাছে হওয়া ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ডেনমার্কের আবহাওয়া ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, শনিবার আরহুস শহরের উত্তরে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৮৭৪ সালে পরিমাপ শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ। চেক হাইড্রোমেটিওরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, প্রাগের উত্তরে রেকর্ড ৪০.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মাপা হয়েছে। স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় শুক্রবার ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত রাত রেকর্ড করা হয়েছে।
শনিবার জার্মানির কর্তৃপক্ষ প্রায় দেশজুড়ে চরম দাবদাহের সতর্কতা জারি করেছে। দাবদাহ পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে পোল্যান্ডের প্রায় সব অঞ্চলেই তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশ ওপরে উঠে গেছে। দানিউব নদীর পানি অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার কারণে হাঙ্গেরির পাকস পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তাদের একটি রিয়্যাক্টরের উৎপাদন কমাতেও বাধ্য হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















