ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কবলে ইরান: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, জনজীবনে নাভিশ্বাস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জেরে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৮৯ শতাংশ ছুঁয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে, যা তাদের ক্রয়ক্ষমতাকে তলানিতে নিয়ে ঠেকিয়েছে।

ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে দেশটির মুদ্রাস্ফীতির হার তীব্রভাবে বেড়ে ৮৮.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারি সংস্থাটির প্রতিবেদন বলছে, যুদ্ধের কারণে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

বিশেষ করে রুটি ও শস্যের দাম প্রায় ১৩৮.৮ শতাংশ, ডিম ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম ১৫১.৯ শতাংশ এবং ‘রেড মিট’ ও মুরগির দাম ১৭৮.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য ‘রেড মিট’ কেনাকে রীতিমতো স্বপ্নের মতো করে তুলেছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি লাখ লাখ মানুষকে কর্মহীন করেছে বা কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছে। এছাড়া, মার্কিন নৌ অবরোধ এবং তেল রপ্তানিতে বাধার কারণে ইরানি রিয়াল মুদ্রা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাংলাদেশি সমর্থকরা যেন এক অর্থে আর্জেন্টাইন’: বিশ্বকাপে আপ্লুত মার্টিনেজ

যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কবলে ইরান: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, জনজীবনে নাভিশ্বাস

আপডেট সময় : ১২:৩১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জেরে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৮৯ শতাংশ ছুঁয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে, যা তাদের ক্রয়ক্ষমতাকে তলানিতে নিয়ে ঠেকিয়েছে।

ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে দেশটির মুদ্রাস্ফীতির হার তীব্রভাবে বেড়ে ৮৮.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারি সংস্থাটির প্রতিবেদন বলছে, যুদ্ধের কারণে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

বিশেষ করে রুটি ও শস্যের দাম প্রায় ১৩৮.৮ শতাংশ, ডিম ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম ১৫১.৯ শতাংশ এবং ‘রেড মিট’ ও মুরগির দাম ১৭৮.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য ‘রেড মিট’ কেনাকে রীতিমতো স্বপ্নের মতো করে তুলেছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি লাখ লাখ মানুষকে কর্মহীন করেছে বা কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছে। এছাড়া, মার্কিন নৌ অবরোধ এবং তেল রপ্তানিতে বাধার কারণে ইরানি রিয়াল মুদ্রা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।