ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়তে সরকারের বহুমুখী সংস্কার কার্যক্রম: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশে বিনিয়োগের গতি বৃদ্ধি, শিল্প খাতের সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে সরকার দ্রুতগতিতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লাইসেন্স প্রদান, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি খাতের সংস্কারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে “শিল্পখাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। তিনি বিজিএমইএ-কে দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও সুসংগঠিত ব্যবসায়িক সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আরও বলেন, চামড়া, পাট, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও জাহাজ নির্মাণসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতের উন্নতি হলেও স্বল্পমেয়াদে কোনো খাতই তৈরি পোশাক শিল্পের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না। তাই দেশের অর্থনীতিতে এই খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় বৈশ্বিক বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বর্তমানে ব্যবসা শুরু ও লাইসেন্স প্রাপ্তিতে গড়ে ৩৫৫ দিন সময় লাগলেও, এই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোম্পানি নিবন্ধনের মাত্র ১৪ দিনের মধ্যেই উদ্যোক্তারা আমদানি নিবন্ধন সনদ (IRC) এবং অন্যান্য প্রাথমিক অনুমোদন পেয়ে যাবেন, যা দ্রুত যন্ত্রপাতি আমদানি ও শিল্প স্থাপনে সহায়ক হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পরিদর্শনের পরিবর্তে সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে উদ্যোক্তাদের হয়রানি কমবে এবং শিল্প স্থাপনের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স, কোম্পানি নিবন্ধন, শেয়ার হস্তান্তর ও কোম্পানি বিলুপ্তিসহ সকল সেবা অনলাইনে প্রদান করা হবে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সফল মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে।

বন্দর ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সম্পৃক্ততার ফলে কার্গো পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে। এতে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকরা বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবেন। তিনি জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আলোচনা করেন এবং এগুলোর সমাধানে সরকারের প্রচেষ্টার কথা জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় রোববার

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়তে সরকারের বহুমুখী সংস্কার কার্যক্রম: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:০৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

দেশে বিনিয়োগের গতি বৃদ্ধি, শিল্প খাতের সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে সরকার দ্রুতগতিতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লাইসেন্স প্রদান, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি খাতের সংস্কারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে “শিল্পখাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। তিনি বিজিএমইএ-কে দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও সুসংগঠিত ব্যবসায়িক সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আরও বলেন, চামড়া, পাট, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও জাহাজ নির্মাণসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতের উন্নতি হলেও স্বল্পমেয়াদে কোনো খাতই তৈরি পোশাক শিল্পের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না। তাই দেশের অর্থনীতিতে এই খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় বৈশ্বিক বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বর্তমানে ব্যবসা শুরু ও লাইসেন্স প্রাপ্তিতে গড়ে ৩৫৫ দিন সময় লাগলেও, এই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোম্পানি নিবন্ধনের মাত্র ১৪ দিনের মধ্যেই উদ্যোক্তারা আমদানি নিবন্ধন সনদ (IRC) এবং অন্যান্য প্রাথমিক অনুমোদন পেয়ে যাবেন, যা দ্রুত যন্ত্রপাতি আমদানি ও শিল্প স্থাপনে সহায়ক হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পরিদর্শনের পরিবর্তে সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে উদ্যোক্তাদের হয়রানি কমবে এবং শিল্প স্থাপনের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স, কোম্পানি নিবন্ধন, শেয়ার হস্তান্তর ও কোম্পানি বিলুপ্তিসহ সকল সেবা অনলাইনে প্রদান করা হবে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সফল মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে।

বন্দর ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সম্পৃক্ততার ফলে কার্গো পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে। এতে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকরা বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবেন। তিনি জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আলোচনা করেন এবং এগুলোর সমাধানে সরকারের প্রচেষ্টার কথা জানান।