ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ঐতিহাসিক জয়ে উৎসবের ঢেউ: জার্মানিকে হারিয়ে ইকুয়েডরে জাতীয় ছুটি ঘোষণা

বিশ্বকাপে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার আনন্দে ভাসছে ইকুয়েডর। এই ঐতিহাসিক জয়ের উদ্‌যাপন করতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া সারা দেশে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছেন। এই জয়ের ফলে ইকুয়েডর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছে।

জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় প্রেসিডেন্ট নোবোয়া খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে ধন্যবাদ জানান এবং ২৬ জুন (শুক্রবার) সারা দেশে সরকারি ছুটি থাকবে বলে ঘোষণা দেন। পরে নির্বাহী আদেশ জারির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়। নোবোয়া তার বার্তায় লেখেন, “সমালোচনা, অপমান আর কঠিন সময় পেরিয়েও খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পুরো জাতিকে আনন্দ উপহার দিয়েছে, তাদের ধন্যবাদ। আগামীকাল ছুটি।” সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এই ছুটি সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের জন্যই প্রযোজ্য এবং এটি পরে কাজ করে পুষিয়ে দিতে হবে না। তবে হাসপাতাল, জরুরি সেবা, বিদ্যুৎ, পানি, অগ্নিনির্বাপণ, বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা স্বাভাবিকভাবেই চালু থাকবে।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ইকুয়েডরের জন্য কঠিন ছিল। দ্বিতীয় মিনিটেই লেরয় সানের গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা। তবে নবম মিনিটে নিলসন আঙ্গুলো সমতা ফেরান। এরপর ৭৭ মিনিটে গনসালো প্লাতার দুর্দান্ত গোলে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ে তারা সেরা আট তৃতীয় স্থানের একটি দল হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয়।

বিশ্বকাপে এটি ইকুয়েডরের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম তারা আবার নকআউট পর্বে উঠল। ম্যাচ শেষে কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে এটিকে দেশের ‘বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়’ বলে অভিহিত করেন। তার ভাষায়, শুরুতে হতাশাজনক ফলের পরও খেলোয়াড়রা নিজেদের বিশ্বাস হারায়নি, আর সেই বিশ্বাসই তাদের ইতিহাস লিখতে সাহায্য করেছে। জার্মানির বিপক্ষে এই রোমাঞ্চকর জয় শুধু বিশ্বকাপের নকআউটের টিকিটই এনে দেয়নি, ইকুয়েডরের মানুষকে দিয়েছে এক স্মরণীয় উৎসবের উপলক্ষ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে টিকে থাকার মরণপণ লড়াই: স্পেনের সামনে উরুগুয়ে

ঐতিহাসিক জয়ে উৎসবের ঢেউ: জার্মানিকে হারিয়ে ইকুয়েডরে জাতীয় ছুটি ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৫:০২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার আনন্দে ভাসছে ইকুয়েডর। এই ঐতিহাসিক জয়ের উদ্‌যাপন করতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া সারা দেশে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছেন। এই জয়ের ফলে ইকুয়েডর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছে।

জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় প্রেসিডেন্ট নোবোয়া খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে ধন্যবাদ জানান এবং ২৬ জুন (শুক্রবার) সারা দেশে সরকারি ছুটি থাকবে বলে ঘোষণা দেন। পরে নির্বাহী আদেশ জারির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়। নোবোয়া তার বার্তায় লেখেন, “সমালোচনা, অপমান আর কঠিন সময় পেরিয়েও খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পুরো জাতিকে আনন্দ উপহার দিয়েছে, তাদের ধন্যবাদ। আগামীকাল ছুটি।” সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এই ছুটি সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের জন্যই প্রযোজ্য এবং এটি পরে কাজ করে পুষিয়ে দিতে হবে না। তবে হাসপাতাল, জরুরি সেবা, বিদ্যুৎ, পানি, অগ্নিনির্বাপণ, বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা স্বাভাবিকভাবেই চালু থাকবে।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ইকুয়েডরের জন্য কঠিন ছিল। দ্বিতীয় মিনিটেই লেরয় সানের গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা। তবে নবম মিনিটে নিলসন আঙ্গুলো সমতা ফেরান। এরপর ৭৭ মিনিটে গনসালো প্লাতার দুর্দান্ত গোলে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ে তারা সেরা আট তৃতীয় স্থানের একটি দল হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয়।

বিশ্বকাপে এটি ইকুয়েডরের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম তারা আবার নকআউট পর্বে উঠল। ম্যাচ শেষে কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে এটিকে দেশের ‘বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়’ বলে অভিহিত করেন। তার ভাষায়, শুরুতে হতাশাজনক ফলের পরও খেলোয়াড়রা নিজেদের বিশ্বাস হারায়নি, আর সেই বিশ্বাসই তাদের ইতিহাস লিখতে সাহায্য করেছে। জার্মানির বিপক্ষে এই রোমাঞ্চকর জয় শুধু বিশ্বকাপের নকআউটের টিকিটই এনে দেয়নি, ইকুয়েডরের মানুষকে দিয়েছে এক স্মরণীয় উৎসবের উপলক্ষ।