রাজধানীর মালিবাগের ফরচুন শপিং সেন্টার মার্কেটে গভীর রাতে একটি জুয়েলার্সের দোকান থেকে প্রায় পাঁচশ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কালো বোরকা পরা দুজন ব্যক্তি তালা ভেঙে এই দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত করে।
ফুটেজে দেখা যায়, ৯ অক্টোবর রাত ৩টা ৭ মিনিটে মার্কেটের করিডরে আলো জ্বললেও সব দোকানপাট বন্ধ। দুজনই কালো রঙের বোরকা পরা এবং কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকা। তাদের সঙ্গে ছিল লোহার পাইপ, লোহা কাটার যন্ত্রসহ তালা ভাঙার বিভিন্ন সরঞ্জাম। জুতা না পরা অবস্থায় তারা সতর্কতার সঙ্গে দ্বিতীয় তলার করিডর ধরে শম্পা জুয়েলার্স দোকানের সামনে আসে। সেখানে তারা কলাপসিবল গেট দেখে নিজেদের মধ্যে কিছুক্ষণ কথা বলে।
রাত ৩টা ৮ মিনিটের দিকে তারা শম্পা জুয়েলার্সের এক কোনায় এসে দাঁড়ায় এবং উঁকি দিয়ে আশপাশে কেউ আছে কিনা তা দেখে নেয়। একজন দোকানের সামনে অবস্থান নেয়, অন্যজন প্রায় দু মিনিট আশপাশে ঘুরে আসে। এরপর একজন কলাপসিবল গেটের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা করিডরের যেদিকে আলো কিছুটা কম, সেদিকে গিয়ে তালা ভাঙার কাজ শুরু করে। এ সময় তাদের একজন সেখানে থাকা একটি ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরা ভাঙার চেষ্টা করে।
রাত ৩টা ১৫ মিনিটে তালা কাটার কাজ শুরু হয় এবং প্রায় আধঘণ্টা সময় নিয়ে ৩টা ৪২ মিনিটে তারা দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে। দোকানে ঢুকেই তারা প্রথমে ভেতরের একটি সিসিটিভি ক্যামেরা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। এরপর একে একে দোকানের শোকেসে থাকা প্রায় পাঁচশ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে বেরিয়ে যায় তারা।
শম্পা জুয়েলার্সের মালিক অচিন্ত্য কুমার বিশ্বাস বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে নিরাপত্তাকর্মীদের ফোন পেয়ে দোকানে এসে দেখেন যে তার সব স্বর্ণালংকার চুরি হয়ে গেছে। এরপর তিনি মার্কেট কমিটি ও পুলিশকে খবর দেন। রমনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখে, বোরকা পরা দুই ব্যক্তি পাশের একটি মার্কেট দিয়ে ফরচুন মার্কেটে প্রবেশ করে এবং সুযোগ বুঝে চুরি করে বেরিয়ে যায়।
দোকানের মালিক অচিন্ত্য কুমার বিশ্বাস জানান, বুধবার রাত ৯টার দিকে তিনি ও তার কর্মচারীরা দোকান বন্ধ করে চলে যান। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় নিরাপত্তাকর্মীর কাছ থেকে খবর পান। দোকানে এসে তিনি দেখেন তালা ভাঙা এবং ৪০০ ভরি নিজস্ব স্বর্ণালংকার ও ১০০ ভরি বন্ধকি সোনা নেই। দোকানের ক্যাশে থাকা নগদ ৪০ হাজার টাকাও চুরি হয়েছে।
তিনি সন্দেহ করছেন, মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মীরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
জুয়েলার্সের দোকানে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি। তবে এ ঘটনায় মার্কেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তেরো জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে রমনা থানা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, চুরি হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ নিয়ে বিভ্রান্তি আছে। তারা শপিং মলের সব সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে চোরদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক বলেন, ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। দেখা যায়, শপিং মলের পেছনের তৃতীয় তলার একটি জানালার গ্রিল ভাঙা। তিনি ধারণা করছেন, চোরেরা হয়তো সেই জানালা দিয়েই মার্কেটে প্রবেশ করে শম্পা জুয়েলার্সের তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে গেছে।
ওসি আরও বলেন, মার্কেটের ভেতরের ও আশপাশের সব সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করে চোর শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, এর আগে ৫ অক্টোবর রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর একটি জুয়েলারি দোকানের দেয়াল কেটে প্রায় ১২৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ পৌনে ৩ লাখ টাকা চুরি হয়। এ ঘটনায় ৭ অক্টোবর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা মোড় সংলগ্ন হাজী রায়হান সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলার ‘লিলি গোল্ড হাউজ’ দোকানের দেয়াল কেটে এই চুরি সংঘটিত হয়।
দোকান মালিক জাকির হোসেনের করা মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে ফেরার পরদিন সকালে এসে দেখেন পাশের দোকানের দেয়াল কেটে তার শোকেসে থাকা প্রায় ১২৫ ভরি স্বর্ণালংকার (যার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা) ও ক্যাশবাক্সে থাকা পৌনে তিন লাখ টাকা চুরি হয়েছে। দোকানের উত্তর পাশের দেয়ালের নিচের অংশ ভাঙা এবং সেখানে দেয়াল কাটার সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। জাকিরের অভিযোগ, দুই মাস আগে পাশের দোকানটি অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন ব্যক্তি থ্রিপিস ব্যবসার কথা বলে ভাড়া নিয়েছিল এবং তাদের সন্দেহের তালিকায় রেখেছে পুলিশ।
রিপোর্টারের নাম 
























