ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

রোনালদোর দাপুটে প্রত্যাবর্তন: সমালোচকদের জবাব দিলেন মাঠে

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বিশাল জয়ে পর্তুগালের হয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। শুধু জোড়া গোল করে দলকে বড় জয় এনে দেননি, একইসাথে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ডও গড়েছেন এই মহাতারকা। ম্যাচ শেষে তিনি নিজের কঠিন সময়, সমালোচনার ঝড় এবং সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শোনালেন।

হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচে পর্তুগাল উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দেয়। রোনালদোর জোড়া গোল ছাড়াও নুনো মেন্দেস একটি এবং রাফায়েল লেয়াও শেষ দিকে একটি গোল করেন। একটি গোল আসে আত্মঘাতী সূত্রে।

ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন, “আমরা জানতাম এই সপ্তাহে এমন কিছু ঘটবে। তবে দল খুব ভালোভাবে কাজ করেছে এবং আমরা অনেক উন্নতি করেছি। একটি প্রবাদ আছে—প্রতিটি কালো মেঘেরই রুপালি দিক থাকে। ব্যক্তিগতভাবে রেকর্ড ভাঙতে সবসময়ই ভালো লাগে, কিন্তু আমার প্রধান লক্ষ্য জাতীয় দলকে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করা। এই পর্যায়ে আমাদের লক্ষ্য ছিল গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে যাওয়া। আমার বিশ্বাস, চার পয়েন্ট নিয়েই আমরা পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছি। আমি খুবই খুশি।”

৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড আরও জানান, কঠিন সময়েও তিনি নিজের ওপর বিশ্বাস হারাননি। তিনি বলেন, “আমি জানতাম এটা হবে। ঈশ্বর তাদেরই সাহায্য করেন, যারা কঠোর পরিশ্রম করে। আমি জানতাম আমার সতীর্থরাও আমাকে সাহায্য করবে। এটি ছিল খুব কঠিন একটি সপ্তাহ, একেবারে অন্ধকার একটি সপ্তাহ। এমনও মনে হচ্ছিল, যেন আমি ইতোমধ্যেই ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছি! কিন্তু আমি টিকে ছিলাম, যেমনটা সবসময় থাকি। কারণ আমি অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে কঠোর পরিশ্রমে বেশি বিশ্বাস করি।”

নিজের অনুভূতি লুকাতে পারেননি রোনালদো। তিনি স্বীকার করেন, “আমি মিথ্যা বলব না, সময়টা কঠিন ছিল। এটা স্বীকার করতেই হবে। তবে আমরা ফিরে এসেছি।” উজবেকিস্তানের বিপক্ষে এই জোড়া গোল করে রোনালদো বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। সমালোচনার মুখে থাকা এক সপ্তাহের পর এমন পারফরম্যান্স যেন তার পক্ষ থেকে সবচেয়ে জোরালো জবাব হয়ে উঠল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের কাছে শেখ হাসিনা কি কেবল আশ্রয়প্রার্থী, নাকি কৌশলগত সম্পদ?

রোনালদোর দাপুটে প্রত্যাবর্তন: সমালোচকদের জবাব দিলেন মাঠে

আপডেট সময় : ১০:০০:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বিশাল জয়ে পর্তুগালের হয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। শুধু জোড়া গোল করে দলকে বড় জয় এনে দেননি, একইসাথে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ডও গড়েছেন এই মহাতারকা। ম্যাচ শেষে তিনি নিজের কঠিন সময়, সমালোচনার ঝড় এবং সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শোনালেন।

হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচে পর্তুগাল উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দেয়। রোনালদোর জোড়া গোল ছাড়াও নুনো মেন্দেস একটি এবং রাফায়েল লেয়াও শেষ দিকে একটি গোল করেন। একটি গোল আসে আত্মঘাতী সূত্রে।

ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন, “আমরা জানতাম এই সপ্তাহে এমন কিছু ঘটবে। তবে দল খুব ভালোভাবে কাজ করেছে এবং আমরা অনেক উন্নতি করেছি। একটি প্রবাদ আছে—প্রতিটি কালো মেঘেরই রুপালি দিক থাকে। ব্যক্তিগতভাবে রেকর্ড ভাঙতে সবসময়ই ভালো লাগে, কিন্তু আমার প্রধান লক্ষ্য জাতীয় দলকে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করা। এই পর্যায়ে আমাদের লক্ষ্য ছিল গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে যাওয়া। আমার বিশ্বাস, চার পয়েন্ট নিয়েই আমরা পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছি। আমি খুবই খুশি।”

৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড আরও জানান, কঠিন সময়েও তিনি নিজের ওপর বিশ্বাস হারাননি। তিনি বলেন, “আমি জানতাম এটা হবে। ঈশ্বর তাদেরই সাহায্য করেন, যারা কঠোর পরিশ্রম করে। আমি জানতাম আমার সতীর্থরাও আমাকে সাহায্য করবে। এটি ছিল খুব কঠিন একটি সপ্তাহ, একেবারে অন্ধকার একটি সপ্তাহ। এমনও মনে হচ্ছিল, যেন আমি ইতোমধ্যেই ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছি! কিন্তু আমি টিকে ছিলাম, যেমনটা সবসময় থাকি। কারণ আমি অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে কঠোর পরিশ্রমে বেশি বিশ্বাস করি।”

নিজের অনুভূতি লুকাতে পারেননি রোনালদো। তিনি স্বীকার করেন, “আমি মিথ্যা বলব না, সময়টা কঠিন ছিল। এটা স্বীকার করতেই হবে। তবে আমরা ফিরে এসেছি।” উজবেকিস্তানের বিপক্ষে এই জোড়া গোল করে রোনালদো বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। সমালোচনার মুখে থাকা এক সপ্তাহের পর এমন পারফরম্যান্স যেন তার পক্ষ থেকে সবচেয়ে জোরালো জবাব হয়ে উঠল।