ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

‘পায়ে গুলি’র হুমকি: গুরুত্ব দিচ্ছেন না এমপি শাহজাহান চৌধুরী, বলছেন ‘ক্ষুব্ধ পক্ষের মশকরা’

চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে ‘পায়ে গুলি করার’ পরিকল্পনার কথোপকথন-সংবলিত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তিনি বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বরং এটি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ক্ষুব্ধ একটি পক্ষের ‘মশকরা করে বলা কথা’ বলে মনে করছেন এই সংসদ সদস্য।

শনিবার সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদককে শাহজাহান চৌধুরী এসব কথা জানান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে একজন ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “লোহাগাড়ায় এমপি কেন আসবে? আসলে পায়ে গুলি করে জিজ্ঞেস করবো কেন এসেছে।” একই কথোপকথনে শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে পরিচিত আরমান উদ্দিনের কণ্ঠও রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে পুরো ঘটনাকে ভিন্নভাবে দেখছেন শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমি আমার ব্যক্তিগত সহকারী আরমানকে চিনি। আমি এমপি হওয়ার পর সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছি। বিশেষ করে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। আরমানও সেখানে বলেছে যে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা যাবে না।”

শাহজাহান চৌধুরীর ভাষ্য, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার কারণেই একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে এমন মন্তব্য করে থাকতে পারে। তিনি বলেন, “যারা অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা হয়তো বলেছে পায়ে গুলি করবে। কিন্তু আমি এটাকে খুব বড় কোনো হুমকি হিসেবে দেখছি না। অনেক সময় মানুষ রাগের মাথায় বা মশকরা করেও নানা কথা বলে।”

এমপি আরও বলেন, “আমি আমার এলাকার মানুষজনকে চিনি। তারা এমন নয়। এলাকার সাধারণ মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। তাই এই বিষয়টি নিয়ে আমি অতটা সিরিয়াস নই।” তবে অডিওটি প্রকাশের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। একজন বর্তমান সংসদ সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলি করার কথা উঠে আসায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ অডিওটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, লোহাগাড়ার বিভিন্ন খাল ও ছড়া থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। প্রশাসনের অভিযান ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের স্বার্থের সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে অডিওটির কথোপকথন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার চোখের জল: এক কৃষকের জীবনের যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি

‘পায়ে গুলি’র হুমকি: গুরুত্ব দিচ্ছেন না এমপি শাহজাহান চৌধুরী, বলছেন ‘ক্ষুব্ধ পক্ষের মশকরা’

আপডেট সময় : ১০:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে ‘পায়ে গুলি করার’ পরিকল্পনার কথোপকথন-সংবলিত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তিনি বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বরং এটি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ক্ষুব্ধ একটি পক্ষের ‘মশকরা করে বলা কথা’ বলে মনে করছেন এই সংসদ সদস্য।

শনিবার সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদককে শাহজাহান চৌধুরী এসব কথা জানান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে একজন ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “লোহাগাড়ায় এমপি কেন আসবে? আসলে পায়ে গুলি করে জিজ্ঞেস করবো কেন এসেছে।” একই কথোপকথনে শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে পরিচিত আরমান উদ্দিনের কণ্ঠও রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে পুরো ঘটনাকে ভিন্নভাবে দেখছেন শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমি আমার ব্যক্তিগত সহকারী আরমানকে চিনি। আমি এমপি হওয়ার পর সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছি। বিশেষ করে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। আরমানও সেখানে বলেছে যে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা যাবে না।”

শাহজাহান চৌধুরীর ভাষ্য, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার কারণেই একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে এমন মন্তব্য করে থাকতে পারে। তিনি বলেন, “যারা অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা হয়তো বলেছে পায়ে গুলি করবে। কিন্তু আমি এটাকে খুব বড় কোনো হুমকি হিসেবে দেখছি না। অনেক সময় মানুষ রাগের মাথায় বা মশকরা করেও নানা কথা বলে।”

এমপি আরও বলেন, “আমি আমার এলাকার মানুষজনকে চিনি। তারা এমন নয়। এলাকার সাধারণ মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। তাই এই বিষয়টি নিয়ে আমি অতটা সিরিয়াস নই।” তবে অডিওটি প্রকাশের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। একজন বর্তমান সংসদ সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলি করার কথা উঠে আসায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ অডিওটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, লোহাগাড়ার বিভিন্ন খাল ও ছড়া থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। প্রশাসনের অভিযান ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের স্বার্থের সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে অডিওটির কথোপকথন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।