ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

উপকূল রক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি পরিবেশবাদীদের

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং মানবসৃষ্ট পরিবেশগত কারণে উপকূলীয় অঞ্চল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, উপকূলের সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তারা মনে করেন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা গভীর সংকটে পড়েছে। তাই উপকূলের সুরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা এবং জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ অপরিহার্য।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও সমাবেশে এসব কথা বলেন তারা। গবেষণা সংস্থা ‘ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ)’ এবং নাগরিক সংগঠন ‘সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন’ যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। তিনি বলেন, উপকূলে প্রতিনিয়ত দুর্যোগ আঘাত হানছে এবং একইসঙ্গে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সুপেয় পানি ও খাদ্য সংকটকে আরও তীব্র করছে। এর ফলে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, জনগণের দাবি সত্ত্বেও প্রস্তাবিত বাজেটে উপকূলের বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায়নি। তিনি সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

সমাবেশে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ডিআরডিএফ’র সভাপতি এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, উপকূলের সংকট এখন কেবল দুর্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জেলে, কৃষক, মৎস্যসম্পদ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। সাগরে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বোট রেজিস্ট্রেশন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং, আবহাওয়া সতর্কবার্তা, উদ্ধারব্যবস্থা এবং নিষেধাজ্ঞা সময়ে যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দসহ একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স সমাবেশে বলেন, উপকূলীয় এলাকার উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন সময়ে কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব পরিলক্ষিত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোহাম্মদপুরে প্রকাশ্যে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি

উপকূল রক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি পরিবেশবাদীদের

আপডেট সময় : ০৬:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং মানবসৃষ্ট পরিবেশগত কারণে উপকূলীয় অঞ্চল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, উপকূলের সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তারা মনে করেন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা গভীর সংকটে পড়েছে। তাই উপকূলের সুরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা এবং জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ অপরিহার্য।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও সমাবেশে এসব কথা বলেন তারা। গবেষণা সংস্থা ‘ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ)’ এবং নাগরিক সংগঠন ‘সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন’ যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। তিনি বলেন, উপকূলে প্রতিনিয়ত দুর্যোগ আঘাত হানছে এবং একইসঙ্গে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সুপেয় পানি ও খাদ্য সংকটকে আরও তীব্র করছে। এর ফলে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, জনগণের দাবি সত্ত্বেও প্রস্তাবিত বাজেটে উপকূলের বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায়নি। তিনি সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

সমাবেশে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ডিআরডিএফ’র সভাপতি এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, উপকূলের সংকট এখন কেবল দুর্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জেলে, কৃষক, মৎস্যসম্পদ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। সাগরে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বোট রেজিস্ট্রেশন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং, আবহাওয়া সতর্কবার্তা, উদ্ধারব্যবস্থা এবং নিষেধাজ্ঞা সময়ে যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দসহ একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স সমাবেশে বলেন, উপকূলীয় এলাকার উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন সময়ে কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব পরিলক্ষিত হয়।