ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ১২৭তম বারের মতো দীর্ঘসূত্রতা

আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৭তম বারের মতো পেছানো হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত আগামী ২২ জুলাই পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তদন্তকারী কর্মকর্তা, পিবিআইয়ের অতিরিক্ত এসপি মো. আজিজুল হক, নির্ধারিত দিনে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত এ নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে তাদের নিজ বাসভবনে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানার একজন উপ-পরিদর্শক শুরু করলেও, চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিবি দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে তদন্ত চালিয়েও রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। এরপর একই বছরের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। একই আদেশে আদালত র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন এবং টাস্কফোর্সকে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে বলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

পরবর্তীতে, গত ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। মামলার আসামিদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ এবং সাগর-রুনির বাড়ির দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদসহ তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান রয়েছেন। এদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ বর্তমানে জামিনে রয়েছেন, বাকিরা কারাগারে আটক রয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদ ও মঙ্গলে দ্রুত অভিযানের জন্য নতুন রোভার পরীক্ষা করছে নাসা

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ১২৭তম বারের মতো দীর্ঘসূত্রতা

আপডেট সময় : ০২:৩৫:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৭তম বারের মতো পেছানো হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত আগামী ২২ জুলাই পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তদন্তকারী কর্মকর্তা, পিবিআইয়ের অতিরিক্ত এসপি মো. আজিজুল হক, নির্ধারিত দিনে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত এ নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে তাদের নিজ বাসভবনে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানার একজন উপ-পরিদর্শক শুরু করলেও, চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিবি দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে তদন্ত চালিয়েও রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। এরপর একই বছরের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। একই আদেশে আদালত র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন এবং টাস্কফোর্সকে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে বলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

পরবর্তীতে, গত ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। মামলার আসামিদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ এবং সাগর-রুনির বাড়ির দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদসহ তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান রয়েছেন। এদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ বর্তমানে জামিনে রয়েছেন, বাকিরা কারাগারে আটক রয়েছেন।