ঢাকা ১২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

এক আইডিতেই মিলবে সব ভাতার তথ্য, আসছে ফ্যামিলি কার্ড নীতিমালা

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অধীনে পরিচালিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং প্রতিটি পরিবারের জন্য নির্ধারিত একটি ইউনিক ‘ওয়ান-আইডি’ নম্বর।

নতুন ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তি বা একটি পরিবার সরকারের কোন কোন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছে, তা একটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই জানা যাবে। এতে একাধিক ভাতা গ্রহণ, তথ্যের অসঙ্গতি এবং জালিয়াতি শনাক্ত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়নের কাজ করছে। ইতোমধ্যে খসড়া নীতিমালা মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে গাইডলাইনের আওতায় কর্মসূচিটি পরিচালিত হলেও আগামী অর্থবছর থেকে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিটি পরিবারের জন্য থাকবে ইউনিক আইডি

নীতিমালার খসড়া অনুযায়ী, প্রতিটি পরিবারকে একটি স্থায়ী ও অনন্য পরিচিতি নম্বর বা ‘ওয়ান-আইডি’ দেওয়া হবে। এই আইডির মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব তথ্য একটি অভিন্ন ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই আইডি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিকল্প নয়। এনআইডি নাগরিক পরিচয়ের জন্য ব্যবহৃত হবে, আর ওয়ান-আইডি ব্যবহৃত হবে পরিবারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার জন্য।

পরিবারের একজন মনোনীত সদস্যের অধীনে স্বামী, সন্তান ও নির্ভরশীল সদস্যদের তথ্য যুক্ত থাকবে। ফলে পরিবারের সামগ্রিক আর্থসামাজিক অবস্থা এবং সরকারি সুবিধা গ্রহণের তথ্য একই প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।

৯৫টি কর্মসূচি আসবে এক ছাতার নিচে

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ৯৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। এসব কর্মসূচির আলাদা আলাদা তথ্যভান্ডার থাকায় একই ব্যক্তির তথ্য একাধিক স্থানে সংরক্ষিত হয় এবং যাচাই প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়।

নতুন ব্যবস্থায় এসব কর্মসূচিকে ধাপে ধাপে একটি সমন্বিত ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ (ডিএসআর)-এর আওতায় আনা হবে। ফলে একজন ব্যক্তি বা পরিবার কোন কোন ভাতা, সহায়তা কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হবে।

১ কোটি ৬১ লাখ মানুষকে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলমান মেয়াদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে চলতি বছরের মধ্যেই প্রায় ৪১ লাখ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, ধাপে ধাপে দেশের সব যোগ্য পরিবারকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

নারীপ্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার

খসড়া নীতিমালায় পরিবারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিবারের মনোনীত নারী সদস্যকে কেন্দ্র করে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ বা পারিবারিক সম্পর্কভিত্তিক ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের তথ্য তার আইডির সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

বিয়ে, জন্ম, মৃত্যু, বিচ্ছেদ কিংবা স্থানান্তরের মতো পরিবর্তন নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করা হবে।

পিএমটি স্কোরে নির্ধারণ হবে সুবিধাভোগী

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে ‘প্রক্সি মিন্স টেস্ট’ (পিএমটি) পদ্ধতিতে।

এ পদ্ধতিতে পরিবারের আয়, সম্পদ, জমি, বসতবাড়ি, জীবনযাত্রার মান এবং অন্যান্য আর্থসামাজিক তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি স্কোর নির্ধারণ করা হবে।

পরবর্তীতে পরিবারগুলোকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করে সবচেয়ে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এজন্য দেশব্যাপী পৃথক জরিপ পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

যারা সুবিধা পাবেন না

খসড়া নীতিমালায় সুবিধার বাইরে থাকা পরিবারগুলোর একটি ‘নেগেটিভ লিস্ট’ও নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী, সরকারি পেনশনভোগী, পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রধারী, চার চাকার গাড়ির মালিক এবং নিয়মিত আয়করদাতারা এ কর্মসূচির সুবিধা পাবেন না।

এছাড়া নির্ধারিত সীমার বেশি জমি বা উচ্চমূল্যের সম্পদের মালিক পরিবারও এই কর্মসূচির বাইরে থাকবে।

এআই দিয়ে হবে তথ্য যাচাই

নতুন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির ব্যবহার।

জাতীয় পরিচয়পত্র, এনবিআর, বিআরটিএ, ভূমি মন্ত্রণালয়, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন এবং ব্যাংকিং তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে।

এর মাধ্যমে আবেদনকারীর তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা যাবে। পাশাপাশি ভুয়া তথ্য, জালিয়াতি, দ্বৈত সুবিধা গ্রহণ বা তথ্যগত অসঙ্গতি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

মৃত্যু হলে কী হবে?

কোনো উপকারভোগী মারা গেলে জাতীয় মৃত্যু নিবন্ধন তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই তথ্য ফ্যামিলি কার্ড সিস্টেমে যুক্ত হবে।

এরপর সংশ্লিষ্ট কার্ডের অর্থপ্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে।

তবে পরিবারের মনোনীত নারী সদস্য মারা গেলে একই পরিবারের অন্য যোগ্য নারী সদস্যের নামে কার্ড স্থানান্তর করা যাবে। এজন্য নতুন জরিপের প্রয়োজন হবে না।

অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নতুন পরিবার যুক্ত হবে

যদি কোনো পরিবার স্থায়ীভাবে এলাকা ত্যাগ করে, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে যায় কিংবা জালিয়াতির অভিযোগে বাতিল হয়, তাহলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নতুন পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

একই সঙ্গে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ যাচাইয়ের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন মূল্যায়ন করা হবে।

স্মার্ট কার্ডে রূপান্তর

বর্তমানে পাইলট পর্যায়ে থাকা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে ধাপে ধাপে আধুনিক স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হবে।

নতুন ডুয়াল-ইন্টারফেস স্মার্ট কার্ডে উপকারভোগীর ছবি, স্বাক্ষর, জিআইএস লোকেশন, ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তথ্য সংযুক্ত থাকবে।

সরকারের আশা, ফ্যামিলি কার্ড ও ওয়ান-আইডি ব্যবস্থা চালু হলে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রযুক্তিনির্ভর হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্তকরণ ও সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্দোনেশিয়ায় ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প, আতঙ্কিত হয়ে একজনের মৃত্যু

এক আইডিতেই মিলবে সব ভাতার তথ্য, আসছে ফ্যামিলি কার্ড নীতিমালা

আপডেট সময় : ০৬:৪০:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অধীনে পরিচালিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং প্রতিটি পরিবারের জন্য নির্ধারিত একটি ইউনিক ‘ওয়ান-আইডি’ নম্বর।

নতুন ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তি বা একটি পরিবার সরকারের কোন কোন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছে, তা একটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই জানা যাবে। এতে একাধিক ভাতা গ্রহণ, তথ্যের অসঙ্গতি এবং জালিয়াতি শনাক্ত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়নের কাজ করছে। ইতোমধ্যে খসড়া নীতিমালা মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে গাইডলাইনের আওতায় কর্মসূচিটি পরিচালিত হলেও আগামী অর্থবছর থেকে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিটি পরিবারের জন্য থাকবে ইউনিক আইডি

নীতিমালার খসড়া অনুযায়ী, প্রতিটি পরিবারকে একটি স্থায়ী ও অনন্য পরিচিতি নম্বর বা ‘ওয়ান-আইডি’ দেওয়া হবে। এই আইডির মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব তথ্য একটি অভিন্ন ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই আইডি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিকল্প নয়। এনআইডি নাগরিক পরিচয়ের জন্য ব্যবহৃত হবে, আর ওয়ান-আইডি ব্যবহৃত হবে পরিবারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার জন্য।

পরিবারের একজন মনোনীত সদস্যের অধীনে স্বামী, সন্তান ও নির্ভরশীল সদস্যদের তথ্য যুক্ত থাকবে। ফলে পরিবারের সামগ্রিক আর্থসামাজিক অবস্থা এবং সরকারি সুবিধা গ্রহণের তথ্য একই প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।

৯৫টি কর্মসূচি আসবে এক ছাতার নিচে

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ৯৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। এসব কর্মসূচির আলাদা আলাদা তথ্যভান্ডার থাকায় একই ব্যক্তির তথ্য একাধিক স্থানে সংরক্ষিত হয় এবং যাচাই প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়।

নতুন ব্যবস্থায় এসব কর্মসূচিকে ধাপে ধাপে একটি সমন্বিত ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ (ডিএসআর)-এর আওতায় আনা হবে। ফলে একজন ব্যক্তি বা পরিবার কোন কোন ভাতা, সহায়তা কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হবে।

১ কোটি ৬১ লাখ মানুষকে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলমান মেয়াদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে চলতি বছরের মধ্যেই প্রায় ৪১ লাখ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, ধাপে ধাপে দেশের সব যোগ্য পরিবারকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

নারীপ্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার

খসড়া নীতিমালায় পরিবারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিবারের মনোনীত নারী সদস্যকে কেন্দ্র করে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ বা পারিবারিক সম্পর্কভিত্তিক ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের তথ্য তার আইডির সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

বিয়ে, জন্ম, মৃত্যু, বিচ্ছেদ কিংবা স্থানান্তরের মতো পরিবর্তন নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করা হবে।

পিএমটি স্কোরে নির্ধারণ হবে সুবিধাভোগী

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে ‘প্রক্সি মিন্স টেস্ট’ (পিএমটি) পদ্ধতিতে।

এ পদ্ধতিতে পরিবারের আয়, সম্পদ, জমি, বসতবাড়ি, জীবনযাত্রার মান এবং অন্যান্য আর্থসামাজিক তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি স্কোর নির্ধারণ করা হবে।

পরবর্তীতে পরিবারগুলোকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করে সবচেয়ে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এজন্য দেশব্যাপী পৃথক জরিপ পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

যারা সুবিধা পাবেন না

খসড়া নীতিমালায় সুবিধার বাইরে থাকা পরিবারগুলোর একটি ‘নেগেটিভ লিস্ট’ও নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী, সরকারি পেনশনভোগী, পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রধারী, চার চাকার গাড়ির মালিক এবং নিয়মিত আয়করদাতারা এ কর্মসূচির সুবিধা পাবেন না।

এছাড়া নির্ধারিত সীমার বেশি জমি বা উচ্চমূল্যের সম্পদের মালিক পরিবারও এই কর্মসূচির বাইরে থাকবে।

এআই দিয়ে হবে তথ্য যাচাই

নতুন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির ব্যবহার।

জাতীয় পরিচয়পত্র, এনবিআর, বিআরটিএ, ভূমি মন্ত্রণালয়, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন এবং ব্যাংকিং তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে।

এর মাধ্যমে আবেদনকারীর তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা যাবে। পাশাপাশি ভুয়া তথ্য, জালিয়াতি, দ্বৈত সুবিধা গ্রহণ বা তথ্যগত অসঙ্গতি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

মৃত্যু হলে কী হবে?

কোনো উপকারভোগী মারা গেলে জাতীয় মৃত্যু নিবন্ধন তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই তথ্য ফ্যামিলি কার্ড সিস্টেমে যুক্ত হবে।

এরপর সংশ্লিষ্ট কার্ডের অর্থপ্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে।

তবে পরিবারের মনোনীত নারী সদস্য মারা গেলে একই পরিবারের অন্য যোগ্য নারী সদস্যের নামে কার্ড স্থানান্তর করা যাবে। এজন্য নতুন জরিপের প্রয়োজন হবে না।

অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নতুন পরিবার যুক্ত হবে

যদি কোনো পরিবার স্থায়ীভাবে এলাকা ত্যাগ করে, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে যায় কিংবা জালিয়াতির অভিযোগে বাতিল হয়, তাহলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নতুন পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

একই সঙ্গে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ যাচাইয়ের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন মূল্যায়ন করা হবে।

স্মার্ট কার্ডে রূপান্তর

বর্তমানে পাইলট পর্যায়ে থাকা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে ধাপে ধাপে আধুনিক স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হবে।

নতুন ডুয়াল-ইন্টারফেস স্মার্ট কার্ডে উপকারভোগীর ছবি, স্বাক্ষর, জিআইএস লোকেশন, ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তথ্য সংযুক্ত থাকবে।

সরকারের আশা, ফ্যামিলি কার্ড ও ওয়ান-আইডি ব্যবস্থা চালু হলে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রযুক্তিনির্ভর হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্তকরণ ও সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।