ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালি সচল হওয়ায় তেলের বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস, ২০২৭ সাল নাগাদ উদ্বৃত্তের শঙ্কা: আইইএ

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার পর বৈশ্বিক তেলের বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘমেয়াদে বাজারে সরবরাহ বাড়তে থাকায় ২০২৭ সাল নাগাদ তেলের উল্লেখযোগ্য উদ্বৃত্ত দেখা দিতে পারে।

আইইএর সর্বশেষ মাসিক তেলবাজার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ফলে বড় ধরনের তেল সরবরাহ সংকট কাটিয়ে ওঠার পথ তৈরি হয়েছে। এর আগে, এই সংকটের কারণে প্রতিদিন ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল উৎপাদন ও সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আইইএ আরও উল্লেখ করেছে যে, সমঝোতা কার্যকর থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের ফলে ইরানের তেল রপ্তানি পুরোপুরি পুনরায় শুরু করার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বৈশ্বিক সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, জুনের শুরুতেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে উল্লেখযোগ্য গতি ফিরে এসেছে। ওমান উপসাগরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর কার্যক্রম বৃদ্ধির ফলে মে মাসে দৈনিক ৯৬ লাখ ব্যারেলে নেমে আসা তেল প্রবাহ বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।

তবে আইইএ সতর্ক করে বলেছে, তেল সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগবে। কারণ প্রধান নৌপথগুলো থেকে মাইন অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরবরাহ শৃঙ্খল পুনরুদ্ধারের কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে না। সংস্থাটির মতে, এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারলে বৈশ্বিক তেলবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড: অস্বচ্ছল পরিবারের সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠবে – ডিসি ফরিদা খানম

হরমুজ প্রণালি সচল হওয়ায় তেলের বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস, ২০২৭ সাল নাগাদ উদ্বৃত্তের শঙ্কা: আইইএ

আপডেট সময় : ০৫:২১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার পর বৈশ্বিক তেলের বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘমেয়াদে বাজারে সরবরাহ বাড়তে থাকায় ২০২৭ সাল নাগাদ তেলের উল্লেখযোগ্য উদ্বৃত্ত দেখা দিতে পারে।

আইইএর সর্বশেষ মাসিক তেলবাজার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ফলে বড় ধরনের তেল সরবরাহ সংকট কাটিয়ে ওঠার পথ তৈরি হয়েছে। এর আগে, এই সংকটের কারণে প্রতিদিন ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল উৎপাদন ও সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আইইএ আরও উল্লেখ করেছে যে, সমঝোতা কার্যকর থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের ফলে ইরানের তেল রপ্তানি পুরোপুরি পুনরায় শুরু করার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বৈশ্বিক সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, জুনের শুরুতেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে উল্লেখযোগ্য গতি ফিরে এসেছে। ওমান উপসাগরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর কার্যক্রম বৃদ্ধির ফলে মে মাসে দৈনিক ৯৬ লাখ ব্যারেলে নেমে আসা তেল প্রবাহ বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।

তবে আইইএ সতর্ক করে বলেছে, তেল সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগবে। কারণ প্রধান নৌপথগুলো থেকে মাইন অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরবরাহ শৃঙ্খল পুনরুদ্ধারের কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে না। সংস্থাটির মতে, এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারলে বৈশ্বিক তেলবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হবে।