ঢাকা ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

নীলফামারীতে ৪৫ লাখ টাকার রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম, সাত দিনেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গ্রামীণ সড়কের কার্পেটিং ঢালাইয়ের মাত্র সাত দিনের মধ্যেই উঠে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, পর্যাপ্ত বিটুমিন না দেওয়া এবং নির্মাণ নীতিমালা উপেক্ষা করে কাজ সম্পন্ন করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের দর্জিপাড়া এলাকায় সদ্য নির্মিত সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং আলগা হয়ে উঠছে। কোথাও কোথাও হাত বা পায়ের সামান্য ঘষাতেই পিচ উঠে যাচ্ছে। সড়কের কয়েকটি অংশে ফাটল এবং পাশের অংশে ভাঙনের চিহ্নও দেখা গেছে। জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মাগুড়া ইউনিয়নের চেকপোস্ট থেকে দর্জিপাড়া গ্রাম পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমন ট্রেডার্স।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ছুটির দিনে তদারকি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করেছে। সড়ক নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট ও সমতলকরণ করা হয়নি। এছাড়া ইট-খোয়া এবং বালু ও কুচি পাথরের সঠিক স্তর না দিয়েই তড়িঘড়ি করে বিটুমিনের প্রলেপ দেওয়া হয়। ফলে রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়া বলেন, ঢালাই দেওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় রাস্তার কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। আমরা ঠিকাদারকে বারবার ভালোভাবে কাজ করার কথা বললেও তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি।

মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান মিঠু অভিযোগ করে বলেন, সরকারি ছুটির দিনে কাজ করা হয়েছে এবং তখন কোনো তদারকি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয়রা নিম্নমানের কাজের বিষয়ে আপত্তি তুললেও ঠিকাদার তা উপেক্ষা করেছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মসগুল হক সাংবাদিকদের জানান, সেখানে কোনো নিম্নমানের কাজ করা হয়নি। আমরা বিভিন্ন স্থানে কাজ করেছি, কোথাও কোনো অভিযোগ নেই। শুধু এ প্রকল্প নিয়েই অভিযোগ উঠেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে ইসরাইলি হামলা চুক্তি ভঙ্গ করতে পারে: ডগ ব্যান্ডো

নীলফামারীতে ৪৫ লাখ টাকার রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম, সাত দিনেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

আপডেট সময় : ১০:১৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গ্রামীণ সড়কের কার্পেটিং ঢালাইয়ের মাত্র সাত দিনের মধ্যেই উঠে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, পর্যাপ্ত বিটুমিন না দেওয়া এবং নির্মাণ নীতিমালা উপেক্ষা করে কাজ সম্পন্ন করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের দর্জিপাড়া এলাকায় সদ্য নির্মিত সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং আলগা হয়ে উঠছে। কোথাও কোথাও হাত বা পায়ের সামান্য ঘষাতেই পিচ উঠে যাচ্ছে। সড়কের কয়েকটি অংশে ফাটল এবং পাশের অংশে ভাঙনের চিহ্নও দেখা গেছে। জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মাগুড়া ইউনিয়নের চেকপোস্ট থেকে দর্জিপাড়া গ্রাম পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমন ট্রেডার্স।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ছুটির দিনে তদারকি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করেছে। সড়ক নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট ও সমতলকরণ করা হয়নি। এছাড়া ইট-খোয়া এবং বালু ও কুচি পাথরের সঠিক স্তর না দিয়েই তড়িঘড়ি করে বিটুমিনের প্রলেপ দেওয়া হয়। ফলে রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়া বলেন, ঢালাই দেওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় রাস্তার কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। আমরা ঠিকাদারকে বারবার ভালোভাবে কাজ করার কথা বললেও তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি।

মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান মিঠু অভিযোগ করে বলেন, সরকারি ছুটির দিনে কাজ করা হয়েছে এবং তখন কোনো তদারকি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয়রা নিম্নমানের কাজের বিষয়ে আপত্তি তুললেও ঠিকাদার তা উপেক্ষা করেছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মসগুল হক সাংবাদিকদের জানান, সেখানে কোনো নিম্নমানের কাজ করা হয়নি। আমরা বিভিন্ন স্থানে কাজ করেছি, কোথাও কোনো অভিযোগ নেই। শুধু এ প্রকল্প নিয়েই অভিযোগ উঠেছে।