ঢাকা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

সাইবেরিয়ায় রুশ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, ক্রুরা জীবিত

রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে রুশ সামরিক বাহিনীর একটি টিইউ-২২এম৩ কৌশলগত বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইঞ্জিন বিকল হওয়াকেই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, টিইউ-২২এম৩ বোমারু বিমানটি হাইপারসনিক ‘কিনঝাল’ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। ন্যাটো জোট এই বিমানটিকে ‘ব্যাকফায়ার’ নামে চিহ্নিত করে। সোভিয়েত আমলে তৈরি এই অতিধ্বনি গতির (শব্দের চেয়ে বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম) বোমারু বিমানটি রাশিয়া সিরিয়া ও ইউক্রেনে সামরিক অভিযানে ব্যবহার করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি আঙ্গারা নদীর তীরের কাছাকাছি একটি ঘন বনাঞ্চলে দ্রুত নিচের দিকে নেমে বিধ্বস্ত হয়। এরপর ঘটনাস্থল থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ইন্টারফ্যাক্স বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগেই এর ক্রুরা নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পাইলটদের জীবন বা স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো হুমকি নেই। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ঘটনাস্থলে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং বিমানটিতে কোনো যুদ্ধাস্ত্রও বহন করা হচ্ছিল না।

ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ এক বিবৃতিতে জানান, বিমানটি কামেনকা গ্রামের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তিনি আরও জানান, চারজন ক্রুকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তারা কোনো গুরুতর আঘাত পাননি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইঞ্জিনের ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, টিইউ-২২এম৩ মূলত আগের টিইউ-২২ বিমানের একটি আধুনিকায়িত সংস্করণ। এটি কেএইচ-২২ (এএস-৪ কিচেন) আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইপারসনিক ‘কিনঝাল’ বা ‘ড্যাগার’ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: ‘দেশ বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না’, আশ্বাস উপদেষ্টার

সাইবেরিয়ায় রুশ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, ক্রুরা জীবিত

আপডেট সময় : ০২:১৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে রুশ সামরিক বাহিনীর একটি টিইউ-২২এম৩ কৌশলগত বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইঞ্জিন বিকল হওয়াকেই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, টিইউ-২২এম৩ বোমারু বিমানটি হাইপারসনিক ‘কিনঝাল’ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। ন্যাটো জোট এই বিমানটিকে ‘ব্যাকফায়ার’ নামে চিহ্নিত করে। সোভিয়েত আমলে তৈরি এই অতিধ্বনি গতির (শব্দের চেয়ে বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম) বোমারু বিমানটি রাশিয়া সিরিয়া ও ইউক্রেনে সামরিক অভিযানে ব্যবহার করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি আঙ্গারা নদীর তীরের কাছাকাছি একটি ঘন বনাঞ্চলে দ্রুত নিচের দিকে নেমে বিধ্বস্ত হয়। এরপর ঘটনাস্থল থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ইন্টারফ্যাক্স বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগেই এর ক্রুরা নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পাইলটদের জীবন বা স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো হুমকি নেই। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ঘটনাস্থলে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং বিমানটিতে কোনো যুদ্ধাস্ত্রও বহন করা হচ্ছিল না।

ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ এক বিবৃতিতে জানান, বিমানটি কামেনকা গ্রামের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তিনি আরও জানান, চারজন ক্রুকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তারা কোনো গুরুতর আঘাত পাননি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইঞ্জিনের ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, টিইউ-২২এম৩ মূলত আগের টিইউ-২২ বিমানের একটি আধুনিকায়িত সংস্করণ। এটি কেএইচ-২২ (এএস-৪ কিচেন) আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইপারসনিক ‘কিনঝাল’ বা ‘ড্যাগার’ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম।