নরসিংদীতে এক অটোরিকশাচালকের ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মো. আনোয়ার হোসেন (২৭) এবং আশিক (২১) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে সদর মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. কলিমুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নিহত সারোয়ার হোসেন (২২) নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার চন্দগাতী এলাকার হাজি রহমানের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে নরসিংদী শহরের টাওয়াদী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গত ১৪ জুন দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর গ্রামের বেরিবাঁধ এলাকা থেকে একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মো. আনোয়ার হোসেন ও আশিককে আটক করে। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্ত হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, আর্থিক লেনদেন নিয়ে সারোয়ারের সঙ্গে আনোয়ারের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ১৩ জুন কৌশলে সারোয়ারকে তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে গলা কেটে হত্যা করে তারা। হত্যাকাণ্ডের পর সারোয়ারের অটোরিকশার ব্যাটারি খুলে নিয়ে তারা অন্যত্র বিক্রি করে দেয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. আনোয়ার হোসেন কিশোরগঞ্জ জেলার হারুয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে এবং তিনি নরসিংদী শহরের টাওয়াদী এলাকায় ভাড়া থাকতেন। অপর আসামি আশিক নরসিংদী সদর উপজেলার বুদিয়ামারা গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা হাজি রহমান বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত মো. আনোয়ার হোসেনকে তিন দিন এবং আশিককে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিপোর্টারের নাম 























