ঢাকা ১১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

ভারত কর্তৃক পুশইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে শাহবাগে বিক্ষোভ: জনগণের ঐক্যবদ্ধতার ডাক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ। সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার জনগণ ভারত কর্তৃক ‘পুশইন’ রুখে দিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। তবে কেউ যদি বন্ধুত্বের আড়ালে ‘দাদাগিরি’ করতে চায়, তবে এদেশের জনগণ তা কখনোই মেনে নেবে না। তিনি ১৯৪৭ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই মন্তব্য করেন।

সোমবার রাজধানীর শাহবাগে ‘ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইন, সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে’ ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত সমস্যা সমাধানে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা সম্পর্ক চাই। এদেশের জনগণ কোনো আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের কাছে মাথা নত করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত আমাদের প্রতি আগ্রাসী আচরণ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয় এবং ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে’ আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিন্ন করার বার্তা দিয়েছে। শহীদ ওসমান হাদীর খুনিকে আটকের পরও বাংলাদেশে ফেরত না দিয়ে ভারত বন্দী চুক্তি ভঙ্গ করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি ভারত সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো দলের সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্ব করতে হলে এদেশের জনগণের পক্ষে ভূমিকা রাখতে হবে।

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ১৯৪৭ সালে ভারত ‘অভিন্ন আকাশের’ স্বপ্ন ভঙ্গ করেছিল। তারা ‘মুসলিম কার্ড’ খেলে মুসলমানদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। সেখান থেকেই আমরা অভিন্ন ভারতের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠতে বাধ্য হয়েছিলাম। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দেন, যদি ‘মুজিববাদের’ পথে হাঁটা হয়, তবে আবারও ছাত্র-জনতা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমাদের দেশের সীমান্তে ভারত প্রতিদিন হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে এবং ‘পুশইন’ করছে। জনগণ উদ্বিগ্ন হলেও আমাদের সরকার উদ্বিগ্ন নয়। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলছেন এটি সীমান্ত ‘কিলিং’ নয়, যা জনগণের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণ: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় আশার আলো, তবে অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত

ভারত কর্তৃক পুশইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে শাহবাগে বিক্ষোভ: জনগণের ঐক্যবদ্ধতার ডাক

আপডেট সময় : ১০:২০:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ। সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার জনগণ ভারত কর্তৃক ‘পুশইন’ রুখে দিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। তবে কেউ যদি বন্ধুত্বের আড়ালে ‘দাদাগিরি’ করতে চায়, তবে এদেশের জনগণ তা কখনোই মেনে নেবে না। তিনি ১৯৪৭ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই মন্তব্য করেন।

সোমবার রাজধানীর শাহবাগে ‘ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইন, সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে’ ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত সমস্যা সমাধানে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা সম্পর্ক চাই। এদেশের জনগণ কোনো আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের কাছে মাথা নত করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত আমাদের প্রতি আগ্রাসী আচরণ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয় এবং ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে’ আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিন্ন করার বার্তা দিয়েছে। শহীদ ওসমান হাদীর খুনিকে আটকের পরও বাংলাদেশে ফেরত না দিয়ে ভারত বন্দী চুক্তি ভঙ্গ করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি ভারত সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো দলের সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্ব করতে হলে এদেশের জনগণের পক্ষে ভূমিকা রাখতে হবে।

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ১৯৪৭ সালে ভারত ‘অভিন্ন আকাশের’ স্বপ্ন ভঙ্গ করেছিল। তারা ‘মুসলিম কার্ড’ খেলে মুসলমানদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। সেখান থেকেই আমরা অভিন্ন ভারতের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠতে বাধ্য হয়েছিলাম। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দেন, যদি ‘মুজিববাদের’ পথে হাঁটা হয়, তবে আবারও ছাত্র-জনতা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমাদের দেশের সীমান্তে ভারত প্রতিদিন হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে এবং ‘পুশইন’ করছে। জনগণ উদ্বিগ্ন হলেও আমাদের সরকার উদ্বিগ্ন নয়। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলছেন এটি সীমান্ত ‘কিলিং’ নয়, যা জনগণের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।