রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২৪২ কিলোমিটার উত্তরের জনপদ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী। এই উপজেলাটি এখন কেবল ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক বা উপাসনালয়ের সীমানায় আবদ্ধ নেই; বরং সাম্প্রতিক সময়ে এটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
গাইবান্ধার এই অনগ্রসর জনপদে একের পর এক বিশাল মূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৮ ফুটের শিব এবং ৫৩ ফুটের কৃষ্ণের পর এবার রামমূর্তি নির্মাণের কর্মযজ্ঞ স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। যেখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যালঘু, সেখানে এমন স্থাপনা নির্মাণের নেপথ্য কারণ, উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকাবাসীর মতে, এর পেছনে থাকতে পারে দেশি-বিদেশি বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর সুদূরপ্রসারী নীলনকশা। মন্দির প্রাঙ্গণে বিদেশি কূটনীতিকদের যাতায়াত এবং প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে এমন কর্মযজ্ঞ চালানোয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গত ১১ জুন সেখানে চলমান আকাশচুম্বী রামমূর্তি নির্মাণের কাজ আপাতত স্থগিত রয়েছে। কিন্তু সরকারি এ সিদ্ধান্তের পরও ধোঁয়াশা কাটছে না। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ের বিশাল এ কর্মযজ্ঞের আড়ালে কি নিছক ধর্মীয় আবেগ, নাকি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য এটি কোনো অশুভ ‘ট্রোজান হর্স’?
এ প্রকল্পের মূল কারিগর হরিদাস চন্দ্র তরণী, যার জীবন যেন কোনো থ্রিলার উপন্যাসের চিত্রনাট্য। এক সময় এসি মেরামতের ছদ্মবেশে গণভবনের অন্দরে যার ছিল অবাধ যাতায়াত, যিনি অতীতে ‘মুসলমান’ পরিচয় ধারণ করে প্রতারণার দায়ে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, সেই হরিদাসের অস্বাভাবিক এ উত্থান এখন গোয়েন্দা মহলে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
গত ১১ জুন এ বিষয়ে দিনভর কথা হয় রংপুর ও গাইবান্ধার উচ্চপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তার সঙ্গে। এদের মধ্যে ছিলেন—রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব, গোয়েন্দা সংস্থার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং বিতর্কের কেন্দ্র থাকা হরিদাস চন্দ্র তরণী। প্রশাসনের আরো বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা হয়েছে, যারা চাকরির বিধিবিধানের কারণে নিজেদের পরিচয় প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 




















