ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

এখন থেকে আন্তর্জাতিক ব্যাংক কার্ডেই কেনা যাবে বিমানের টিকিট

দেশেই বসে আন্তর্জাতিক ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে বিদেশগামী বিমানের টিকিট কেনার সুযোগ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। টিকিট কেনায় গ্রাহকদের সুবিধা বৃদ্ধি, ভাড়ার প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

আগে যা ছিল, এখন কী হচ্ছে

এর আগে আন্তর্জাতিক কার্ড কেবল বিদেশ ভ্রমণের সময় ব্যয় মেটানোর জন্যই ব্যবহার করা যেত। দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা সীমিত থাকায় অনেকে ন্যায্য বা প্রতিযোগিতামূলক দামে টিকিট কিনতে পারতেন না। নতুন নীতি চালু হওয়ায় যাত্রীরা এখন বাংলাদেশে অবস্থান করেই আন্তর্জাতিক কার্ডে যেকোনও বৈধ বিদেশি রুটের টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন।

যেভাবে হবে লেনদেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে—

  • উপযুক্ত ভিসাধারী বাংলাদেশি যাত্রীরা দেশে কার্যরত আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর টিকিট আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে কিনতে পারবেন।
  • টিকিট বিক্রির অর্থ অবশ্যই বাংলাদেশের এডি ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।
  • এই আয় বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে ব্যাংকিং খাতে রেকর্ড করা হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনবে।

এছাড়া ভ্রমণ কোটার আওতায় ইস্যু করা আন্তর্জাতিক কার্ডে টিকিট বাবদ খরচ করা অর্থ পরবর্তীতে পুনরায় রিফিল করার সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে শর্ত হলো—এডি ব্যাংক নিশ্চিত হবে, টিকিট বিক্রির টাকা আন্তঃব্যাংকিং চ্যানেলে জমা হওয়ার পরই কার্ডটি রিফিল করা যাবে।

এয়ারলাইনসের বৈদেশিক মুদ্রা অ্যাকাউন্টে সুবিধা

এয়ারলাইনসগুলোকে বাংলাদেশে অবস্থিত এডি ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রা অ্যাকাউন্টে টিকিট বিক্রির অর্থ জমা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নিয়ম মেনে এই অ্যাকাউন্টে থাকা উদ্বৃত্ত অর্থ টাকায় রূপান্তর না করেই বৈধভাবে বিদেশে পাঠানো যাবে।

খাত সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা

এভিয়েশন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের টিকিটিং ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে। এতে দেশি-বিদেশি চ্যানেলের মূল্য পার্থক্য কমবে এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ পর্যবেক্ষণ আরও শক্তিশালী হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

এখন থেকে আন্তর্জাতিক ব্যাংক কার্ডেই কেনা যাবে বিমানের টিকিট

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

দেশেই বসে আন্তর্জাতিক ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে বিদেশগামী বিমানের টিকিট কেনার সুযোগ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। টিকিট কেনায় গ্রাহকদের সুবিধা বৃদ্ধি, ভাড়ার প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

আগে যা ছিল, এখন কী হচ্ছে

এর আগে আন্তর্জাতিক কার্ড কেবল বিদেশ ভ্রমণের সময় ব্যয় মেটানোর জন্যই ব্যবহার করা যেত। দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা সীমিত থাকায় অনেকে ন্যায্য বা প্রতিযোগিতামূলক দামে টিকিট কিনতে পারতেন না। নতুন নীতি চালু হওয়ায় যাত্রীরা এখন বাংলাদেশে অবস্থান করেই আন্তর্জাতিক কার্ডে যেকোনও বৈধ বিদেশি রুটের টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন।

যেভাবে হবে লেনদেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে—

  • উপযুক্ত ভিসাধারী বাংলাদেশি যাত্রীরা দেশে কার্যরত আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর টিকিট আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে কিনতে পারবেন।
  • টিকিট বিক্রির অর্থ অবশ্যই বাংলাদেশের এডি ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।
  • এই আয় বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে ব্যাংকিং খাতে রেকর্ড করা হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনবে।

এছাড়া ভ্রমণ কোটার আওতায় ইস্যু করা আন্তর্জাতিক কার্ডে টিকিট বাবদ খরচ করা অর্থ পরবর্তীতে পুনরায় রিফিল করার সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে শর্ত হলো—এডি ব্যাংক নিশ্চিত হবে, টিকিট বিক্রির টাকা আন্তঃব্যাংকিং চ্যানেলে জমা হওয়ার পরই কার্ডটি রিফিল করা যাবে।

এয়ারলাইনসের বৈদেশিক মুদ্রা অ্যাকাউন্টে সুবিধা

এয়ারলাইনসগুলোকে বাংলাদেশে অবস্থিত এডি ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রা অ্যাকাউন্টে টিকিট বিক্রির অর্থ জমা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নিয়ম মেনে এই অ্যাকাউন্টে থাকা উদ্বৃত্ত অর্থ টাকায় রূপান্তর না করেই বৈধভাবে বিদেশে পাঠানো যাবে।

খাত সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা

এভিয়েশন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের টিকিটিং ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে। এতে দেশি-বিদেশি চ্যানেলের মূল্য পার্থক্য কমবে এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ পর্যবেক্ষণ আরও শক্তিশালী হবে।