ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

রাজস্ব আদায়ে ভাটা: ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসসহ ১১ কারণ জানালেন অর্থমন্ত্রী

দেশের রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার পেছনে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, ব্যবসায়িক ক্ষতি, শিল্প উৎপাদনে ঘাটতি এবং মুনাফা হ্রাসসহ মোট ১১টি কারণ জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) এপ্রিল পর্যন্ত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার লক্ষ ৩১ হাজার ৪৬১ দশমিক ২৭ কোটি টাকা, কিন্তু আহরণ করা হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ দশমিক ১৬ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৭৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনজনিত সাময়িক শূন্যতা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিপর্যয়, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং সামষ্টিক অর্থনীতির মন্দাভাবও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা সৃষ্টি করেছে। তবে বছরের শেষভাগে অটোমেশন ও কর ফাঁকি রোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কঠোর অবস্থান এই ঘাটতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করছে বলে তিনি জানান।

অর্থমন্ত্রী রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার ১১টি কারণের মধ্যে প্রধান কয়েকটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে প্রায় দুই অঙ্কের (১০% এর কাছাকাছি) উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে, যার ফলে মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবী শ্রেণীর প্রকৃত সঞ্চয় বা করযোগ্য আয় হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া, এই সময়ে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়া এবং খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা বাণিজ্যের স্থবিরতার কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় কমে গেছে, যা সরাসরি কর্পোরেট কর আহরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারেনি, যা শিল্প উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি করেছে। উচ্চ সুদহার এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট মুনাফা কমে গেছে, যা আয়করের একটি বড় উৎস।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক সরকার না থাকা, বিনিয়োগ কম থাকা, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা, উৎপাদন ও সরবরাহ কম এবং মূসক ও সম্পূরক শুল্ক প্রদানকারী বেশ সংখ্যক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণেও রাজস্ব আদায় প্রভাবিত হয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় আহত শিবির নেতা সালাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর

রাজস্ব আদায়ে ভাটা: ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসসহ ১১ কারণ জানালেন অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:২১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

দেশের রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার পেছনে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, ব্যবসায়িক ক্ষতি, শিল্প উৎপাদনে ঘাটতি এবং মুনাফা হ্রাসসহ মোট ১১টি কারণ জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) এপ্রিল পর্যন্ত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার লক্ষ ৩১ হাজার ৪৬১ দশমিক ২৭ কোটি টাকা, কিন্তু আহরণ করা হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ দশমিক ১৬ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৭৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনজনিত সাময়িক শূন্যতা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিপর্যয়, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং সামষ্টিক অর্থনীতির মন্দাভাবও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা সৃষ্টি করেছে। তবে বছরের শেষভাগে অটোমেশন ও কর ফাঁকি রোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কঠোর অবস্থান এই ঘাটতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করছে বলে তিনি জানান।

অর্থমন্ত্রী রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার ১১টি কারণের মধ্যে প্রধান কয়েকটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে প্রায় দুই অঙ্কের (১০% এর কাছাকাছি) উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে, যার ফলে মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবী শ্রেণীর প্রকৃত সঞ্চয় বা করযোগ্য আয় হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া, এই সময়ে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়া এবং খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা বাণিজ্যের স্থবিরতার কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় কমে গেছে, যা সরাসরি কর্পোরেট কর আহরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারেনি, যা শিল্প উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি করেছে। উচ্চ সুদহার এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট মুনাফা কমে গেছে, যা আয়করের একটি বড় উৎস।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক সরকার না থাকা, বিনিয়োগ কম থাকা, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা, উৎপাদন ও সরবরাহ কম এবং মূসক ও সম্পূরক শুল্ক প্রদানকারী বেশ সংখ্যক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণেও রাজস্ব আদায় প্রভাবিত হয়েছিল।