ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

দেশের বাজেট ও অর্থনৈতিক সংকট: পাঁচ দশকের বাস্তবতা ও উত্তরণের চ্যালেঞ্জ

একটি দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল চালিকাশক্তি হলো তার জাতীয় বাজেট। বাজেটের আয়-ব্যয় কাঠামোর ওপরই নির্ভর করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ও দেশের সামগ্রিক আর্থিক নিরাপত্তা। তবে স্বাধীনতার পর গত সাড়ে পাঁচ দশকের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাজেট সবসময় সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারেনি। বরং বিভিন্ন সময়ে এই বাজেটকে ঘিরে লুটপাট ও অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। সময়ের বিবর্তনে ২০২৪-২৫ অর্থবছর নাগাদ বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় এক হাজার গুণ। তবে রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজেট ঘাটতি এখন প্রকট রূপ ধারণ করেছে। বর্তমানে দেশে ঘাটতি বাজেটের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায়। অন্যদিকে, জাতীয় ঋণের বোঝা ক্রমাগত বেড়ে এখন প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকায় ঠেকেছে, যা মোট জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ। এই বিশাল ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে দেশের অর্থনীতি এখন চরম চাপের মুখে পড়েছে, যার অন্যতম কারণ বিগত বছরগুলোতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অপরিকল্পিত বরাদ্দ।

বাজেটে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ নিয়েও দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী একটি দেশের জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করা উচিত হলেও বাংলাদেশে এই বরাদ্দ বরাবরই উপেক্ষিত। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, শিক্ষা খাতে সবচেয়ে কম বরাদ্দ দেওয়া দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ওপরের দিকে। দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষা খাতে মোট বাজেটের ২০ শতাংশ বা জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানানো হলেও কোনো সরকারই তা বাস্তবায়ন করেনি। উল্টো গত ৯ বছরে এই খাতে বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে কমেছে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী মানবসম্পদ উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় আহত শিবির নেতা সালাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর

দেশের বাজেট ও অর্থনৈতিক সংকট: পাঁচ দশকের বাস্তবতা ও উত্তরণের চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ১২:২৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

একটি দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল চালিকাশক্তি হলো তার জাতীয় বাজেট। বাজেটের আয়-ব্যয় কাঠামোর ওপরই নির্ভর করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ও দেশের সামগ্রিক আর্থিক নিরাপত্তা। তবে স্বাধীনতার পর গত সাড়ে পাঁচ দশকের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাজেট সবসময় সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারেনি। বরং বিভিন্ন সময়ে এই বাজেটকে ঘিরে লুটপাট ও অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। সময়ের বিবর্তনে ২০২৪-২৫ অর্থবছর নাগাদ বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় এক হাজার গুণ। তবে রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজেট ঘাটতি এখন প্রকট রূপ ধারণ করেছে। বর্তমানে দেশে ঘাটতি বাজেটের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায়। অন্যদিকে, জাতীয় ঋণের বোঝা ক্রমাগত বেড়ে এখন প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকায় ঠেকেছে, যা মোট জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ। এই বিশাল ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে দেশের অর্থনীতি এখন চরম চাপের মুখে পড়েছে, যার অন্যতম কারণ বিগত বছরগুলোতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অপরিকল্পিত বরাদ্দ।

বাজেটে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ নিয়েও দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী একটি দেশের জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করা উচিত হলেও বাংলাদেশে এই বরাদ্দ বরাবরই উপেক্ষিত। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, শিক্ষা খাতে সবচেয়ে কম বরাদ্দ দেওয়া দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ওপরের দিকে। দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষা খাতে মোট বাজেটের ২০ শতাংশ বা জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানানো হলেও কোনো সরকারই তা বাস্তবায়ন করেনি। উল্টো গত ৯ বছরে এই খাতে বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে কমেছে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী মানবসম্পদ উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।