ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য করা হবে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতা চুক্তি মেনে নিতেই হবে। তিনি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নেতানিয়াহুর সামনে অন্য কোনো পথ খোলা থাকবে না। ট্রাম্প নিজেকে সকল সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “সব সিদ্ধান্ত আমিই নিই। আমিই সব সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রক। তিনি সিদ্ধান্ত নেন না।”

অন্যদিকে, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার পরও তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ব্যাপারে নিজের অবস্থান বদলাননি বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি এই উত্তেজনা সত্ত্বেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার উপর জোর দেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, এই হামলাটি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন জানিয়ে চালানো হয়েছে। এর আগে ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতে হিজবুল্লাহর একটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পর ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এর পূর্বে তিনি সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছিলেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা না চালানোর জন্য তিনি নেতানিয়াহুকে অনুরোধ করবেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির লক্ষ্যে কাজ করছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করবে না। তিনি বলেন, “এটি চুক্তির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। কী হয়, তা দেখা যাবে। কিন্তু এই হামলাগুলো চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না।”

ট্রাম্প দাবি করেন যে, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের পথেও যেতে পারে। ট্রাম্পের ভাষায়, “চুক্তি না হলে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, আমরা সামরিকভাবে বাকি বিষয়গুলোরও সমাধান করতে পারি। দ্বিতীয়ত, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে। আমার মতে, এই অবরোধ দেশটির বিরুদ্ধে পরিচালিত যেকোনো সামরিক হামলার চেয়েও বেশি কার্যকর হয়েছে।” মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুর সীমান্তে বিজিবির সাহসী পদক্ষেপ: বিএসএফের হুমকির কড়া জবাব, প্রশংসা কুড়াচ্ছে জওয়ানরা

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য করা হবে: ট্রাম্প

আপডেট সময় : ০৫:৫২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতা চুক্তি মেনে নিতেই হবে। তিনি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নেতানিয়াহুর সামনে অন্য কোনো পথ খোলা থাকবে না। ট্রাম্প নিজেকে সকল সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “সব সিদ্ধান্ত আমিই নিই। আমিই সব সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রক। তিনি সিদ্ধান্ত নেন না।”

অন্যদিকে, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার পরও তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ব্যাপারে নিজের অবস্থান বদলাননি বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি এই উত্তেজনা সত্ত্বেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার উপর জোর দেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, এই হামলাটি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন জানিয়ে চালানো হয়েছে। এর আগে ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতে হিজবুল্লাহর একটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পর ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এর পূর্বে তিনি সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছিলেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা না চালানোর জন্য তিনি নেতানিয়াহুকে অনুরোধ করবেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির লক্ষ্যে কাজ করছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করবে না। তিনি বলেন, “এটি চুক্তির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। কী হয়, তা দেখা যাবে। কিন্তু এই হামলাগুলো চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না।”

ট্রাম্প দাবি করেন যে, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের পথেও যেতে পারে। ট্রাম্পের ভাষায়, “চুক্তি না হলে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, আমরা সামরিকভাবে বাকি বিষয়গুলোরও সমাধান করতে পারি। দ্বিতীয়ত, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে। আমার মতে, এই অবরোধ দেশটির বিরুদ্ধে পরিচালিত যেকোনো সামরিক হামলার চেয়েও বেশি কার্যকর হয়েছে।” মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।