ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ডিসি কার্যালয়ে দুই বিএনপি নেতার হাতাহাতি, সমালোচনার ঝড়

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে দুই জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতার প্রকাশ্য হাতাহাতির ঘটনায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার বিকেলে ডিসি অফিসের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, যেখানে একটি ফুলের টব ভাঙচুরের পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একজন কর্মচারীও আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হক জেলা প্রশাসকের কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন সেখানে প্রবেশ করছিলেন। মুখোমুখি হওয়ার পর তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ একে অপরকে ‘দালাল’ ও ‘বহিষ্কৃত’ বলে কটূক্তি করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তীব্র বাদানুবাদ থেকে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং একে অপরের প্রতি চড়-থাপ্পড় নিক্ষেপ করেন।

জানা যায়, একপর্যায়ে হাফেজ আজিজুল হক বারান্দায় রাখা একটি ফুলের টব তুলে তোফাজ্জল হোসেনকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা প্রশাসকের বডিগার্ড পুলিশ সদস্য মো. জাকির হোসেনসহ অন্যরা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহকারী জনি (৩৭) আহত হন এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে হাফেজ আজিজুল হক ও তোফাজ্জল হোসেন উভয়েই তাদের মধ্যে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার কথা জানান। জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, “হঠাৎ এমন ঘটনার সূত্রপাত হওয়ায় আমি ও উপস্থিত সবাই বিব্রত হয়েছি। সরকারি দপ্তরে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

এদিকে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অবাধ যাতায়াত নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ডিসি অফিসে নিয়মিত উপস্থিতি বেড়েছে। অনেক সময় তাদের ভিড়ের কারণে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের চলাচল এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। এমনকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনেও সমস্যা সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। এই ঘটনার পর প্রশাসনিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুর সীমান্তে বিজিবির সাহসী পদক্ষেপ: বিএসএফের হুমকির কড়া জবাব, প্রশংসা কুড়াচ্ছে জওয়ানরা

ডিসি কার্যালয়ে দুই বিএনপি নেতার হাতাহাতি, সমালোচনার ঝড়

আপডেট সময় : ১১:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে দুই জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতার প্রকাশ্য হাতাহাতির ঘটনায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার বিকেলে ডিসি অফিসের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, যেখানে একটি ফুলের টব ভাঙচুরের পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একজন কর্মচারীও আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হক জেলা প্রশাসকের কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন সেখানে প্রবেশ করছিলেন। মুখোমুখি হওয়ার পর তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ একে অপরকে ‘দালাল’ ও ‘বহিষ্কৃত’ বলে কটূক্তি করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তীব্র বাদানুবাদ থেকে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং একে অপরের প্রতি চড়-থাপ্পড় নিক্ষেপ করেন।

জানা যায়, একপর্যায়ে হাফেজ আজিজুল হক বারান্দায় রাখা একটি ফুলের টব তুলে তোফাজ্জল হোসেনকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা প্রশাসকের বডিগার্ড পুলিশ সদস্য মো. জাকির হোসেনসহ অন্যরা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহকারী জনি (৩৭) আহত হন এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে হাফেজ আজিজুল হক ও তোফাজ্জল হোসেন উভয়েই তাদের মধ্যে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার কথা জানান। জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, “হঠাৎ এমন ঘটনার সূত্রপাত হওয়ায় আমি ও উপস্থিত সবাই বিব্রত হয়েছি। সরকারি দপ্তরে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

এদিকে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অবাধ যাতায়াত নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ডিসি অফিসে নিয়মিত উপস্থিতি বেড়েছে। অনেক সময় তাদের ভিড়ের কারণে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের চলাচল এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। এমনকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনেও সমস্যা সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। এই ঘটনার পর প্রশাসনিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।