কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনথী (২৩) ও তার মা তাহমিনা বেগম (৫২) হত্যাকাণ্ডের নয় মাস অতিবাহিত হলেও এখনো বিচার কার্যক্রম শুরু হয়নি। আলোচিত এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করলেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্বের কারণে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না।
গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিনই পুলিশ মোবারক হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিহত পরিবারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল হোসাইন জানান, আসামির জামিনের আবেদন না থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত বিচার কার্যক্রম শুরু হবে না। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শরিফ ইবনে আলম জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ হয়েছে এবং চার্জশিট প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে চার্জশিট আদালতে পাঠানো হবে। তদন্তে এতদিন সময় লাগার কারণ জানতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য বলে জানান।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। আসামীর স্বীকারোক্তির পরেও বিচারিক কার্যক্রম ও শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় নিহতের পরিবার ও সুমাইয়ার সহপাঠীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, গাফিলতি না থাকলে এত দীর্ঘ সময় লাগার কথা নয়।
রিপোর্টারের নাম 























