ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা: উদ্বেগ বাড়ছে শিল্পে

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ধারাবাহিক ধস অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। জুলাই থেকে মে পর্যন্ত গত ১১ মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। ইইউ থেকে রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, টানা কয়েক মাসের দুর্বলতার পর এপ্রিল মাসে রপ্তানিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর যে আভাস মিলেছিল, এক মাস পরই তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। প্রধান বাজার ইউরোপে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে বাংলাদেশ থেকে ৪৪০ কোটি ২৭ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের মে মাসের তুলনায় ৭ দশমিক ০৭ শতাংশ কম। এই সময়ে তৈরি পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৫৯ কোটি ডলার, যা গত বছরের মে মাসের তুলনায় ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কম। পোশাক খাতের এই বড় পতনই সামগ্রিক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ইপিবির দেশভিত্তিক হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে ইইউতে ১ হাজার ৭৩৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির ৪৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। তবে আগের অর্থবছরে একই সময়ে আয় ছিল ১ হাজার ৮২৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে এই বাজারে রপ্তানি আয় কমেছে ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে দেশের রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং রপ্তানি আদেশে ব্যাপকভাবে ভাটা পড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি শীর্ষ অঞ্চলগুলোতে পিছিয়ে পড়াটা উদ্বেগজনক। ইইউ থেকে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে, তাই এ বাজারে এমন পতন দীর্ঘস্থায়ী হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবের নতুন প্যাকেজ ভিসা: বাংলাদেশসহ ৭ দেশের পর্যটকদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ

ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা: উদ্বেগ বাড়ছে শিল্পে

আপডেট সময় : ১০:৫৪:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ধারাবাহিক ধস অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। জুলাই থেকে মে পর্যন্ত গত ১১ মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। ইইউ থেকে রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, টানা কয়েক মাসের দুর্বলতার পর এপ্রিল মাসে রপ্তানিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর যে আভাস মিলেছিল, এক মাস পরই তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। প্রধান বাজার ইউরোপে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে বাংলাদেশ থেকে ৪৪০ কোটি ২৭ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের মে মাসের তুলনায় ৭ দশমিক ০৭ শতাংশ কম। এই সময়ে তৈরি পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৫৯ কোটি ডলার, যা গত বছরের মে মাসের তুলনায় ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কম। পোশাক খাতের এই বড় পতনই সামগ্রিক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ইপিবির দেশভিত্তিক হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে ইইউতে ১ হাজার ৭৩৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির ৪৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। তবে আগের অর্থবছরে একই সময়ে আয় ছিল ১ হাজার ৮২৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে এই বাজারে রপ্তানি আয় কমেছে ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে দেশের রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং রপ্তানি আদেশে ব্যাপকভাবে ভাটা পড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি শীর্ষ অঞ্চলগুলোতে পিছিয়ে পড়াটা উদ্বেগজনক। ইইউ থেকে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে, তাই এ বাজারে এমন পতন দীর্ঘস্থায়ী হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।