ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি: সাধারণ মানুষের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৫:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবনা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে দুশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতের কর্মজীবী এবং নিম্ন আয়ের মানুষেরা আশঙ্কা করছেন যে, সরকারি বেতন বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উস্কে দেবে, যা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।

ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিনের মতো অনেকেই বর্তমানে উচ্চমূল্যের বাজারে হিমশিম খাচ্ছেন। তার মতো যারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, তাদের আয় সীমিত। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়বে বলে তাদের আশঙ্কা। কিন্তু তাদের আয় না বাড়ায়, জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

অর্থনীতিবিদরাও এই উদ্বেগ অমূলক মনে করছেন না। তাদের মতে, সাড়ে ১৪ লাখের বেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির ফলে কেবল মুদ্রাস্ফীতিই বাড়বে না, বরং বৈষম্য, দারিদ্র্য এবং তারল্য সংকটসহ সামাজিক ক্ষেত্রেও নানা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর সতর্ক করে বলেছেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সরকারের পূর্বপ্রস্তুতি না থাকলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষিত হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর মূল বেতন ৫ শতাংশ হারে বাড়লেও নতুন কোনো পে-স্কেল দেওয়া হয়নি। ২০২৫ সালে একটি নতুন বেতন কমিশন গঠন করা হয় এবং গত জানুয়ারিতে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ এবং যাতায়াত ভাতা বাড়ানোর সুপারিশও রয়েছে। এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

যদিও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী সরকারের হাতে ছেড়ে দিয়েছিল, বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে। কমিটি ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। বেশ কয়েকটি গ্রেডে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়তে পারে। চলতি মাসেই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, দীর্ঘ ১০ বছর পর নতুন পে-স্কেল ঘোষণার উদ্যোগ যৌক্তিক মনে হলেও, এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপর কী হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের ১ কোটি ৩২ লাখের বেশি ভিডিও মুছে ফেলেছে টিকটক

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি: সাধারণ মানুষের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

আপডেট সময় : ১০:২৫:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবনা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে দুশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতের কর্মজীবী এবং নিম্ন আয়ের মানুষেরা আশঙ্কা করছেন যে, সরকারি বেতন বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উস্কে দেবে, যা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।

ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিনের মতো অনেকেই বর্তমানে উচ্চমূল্যের বাজারে হিমশিম খাচ্ছেন। তার মতো যারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, তাদের আয় সীমিত। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়বে বলে তাদের আশঙ্কা। কিন্তু তাদের আয় না বাড়ায়, জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

অর্থনীতিবিদরাও এই উদ্বেগ অমূলক মনে করছেন না। তাদের মতে, সাড়ে ১৪ লাখের বেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির ফলে কেবল মুদ্রাস্ফীতিই বাড়বে না, বরং বৈষম্য, দারিদ্র্য এবং তারল্য সংকটসহ সামাজিক ক্ষেত্রেও নানা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর সতর্ক করে বলেছেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সরকারের পূর্বপ্রস্তুতি না থাকলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষিত হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর মূল বেতন ৫ শতাংশ হারে বাড়লেও নতুন কোনো পে-স্কেল দেওয়া হয়নি। ২০২৫ সালে একটি নতুন বেতন কমিশন গঠন করা হয় এবং গত জানুয়ারিতে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ এবং যাতায়াত ভাতা বাড়ানোর সুপারিশও রয়েছে। এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

যদিও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী সরকারের হাতে ছেড়ে দিয়েছিল, বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে। কমিটি ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। বেশ কয়েকটি গ্রেডে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়তে পারে। চলতি মাসেই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, দীর্ঘ ১০ বছর পর নতুন পে-স্কেল ঘোষণার উদ্যোগ যৌক্তিক মনে হলেও, এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপর কী হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।