ঢাকা ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

নিজের ফেসবুক পোস্ট মুছে গণমাধ্যমকে দুষলেন চসিক মেয়র

মশা নিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের অনুমোদন না পাওয়ার পেছনে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এই পোস্টকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্ট ডিলিট করে উল্টো গণমাধ্যমকে দুষছেন তিনি।
মেয়র শাহাদাত মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, নিজের নামে গণমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যগুলো তার বক্তব্য নয়। অথচ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন না পাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। একাধিক জাতীয় সংবাদমাধ্যমে তার ফেসবুক পোস্টের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে মেয়র শাহাদাত হোসেনের পোস্টের স্ক্রিনশটও যুক্ত করা হয়েছে।
দুপুরে দেওয়া এই পোস্ট অস্বীকার করে সন্ধ্যায় দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, “মঙ্গলবার প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত কিছু পোস্টে আমার নামে বিভিন্ন বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি সুস্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, উক্ত বিষয় সম্পর্কে আমি কোনো গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার প্রদান করিনি, কোনও সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলিনি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে মন্তব্যকারী কোনও ব্যক্তিকেও কোনও ধরনের বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া প্রদান করিনি। ফলে আমার নামে প্রচারিত বক্তব্যগুলো আমার বক্তব্য নয়।”
প্রকৃত ঘটনা হলো, মশক নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে আধুনিক ও কার্যকর প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকেই বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের পক্ষ থেকে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, আমি তা সম্পূর্ণ শ্রদ্ধার সঙ্গে এবং সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নিয়েছি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সবসময় সরকারের নীতিমালা, আইন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ভবিষ্যতেও সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।”
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে “ভুল তথ্য আর ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে মশক নিধনের বৈপ্লবিক সম্ভাবনা কি ভেস্তে যাবে?” শিরোনামে ফেসবুকে এক পোস্ট করেছিলেন মেয়র শাহাদাত।
ওই পোস্টে আমেরিকার মিয়ামি-ডেড কাউন্টিতে ছড়িয়ে পড়া মারাত্মক ‘জিকা ভাইরাস’ প্রতিরোধে বিশেষ জৈবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কেইস স্টাডি উল্লেখ করে মেয়র লিখেন, “ঠিক একই রকম এক জাদুকরী বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছিল আমাদের চট্টগ্রামেও। সব প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত, ঠিক তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সফরের বিষয়ে সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে। ফলে দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সফরটি এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”
এই পোস্টের সূত্র ধরে দেশের জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। মেয়রের পোস্টোর ভাষা বিএনপির নীতিনির্ধারনী ফোরাম নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণ করতে পারেন বলেও আলোচনা শুরু হয়। এরপর সন্ধ্যায় মেয়র নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট ডিলেট করেন এবং নতুন বিবৃতি দিয়ে আগের অবস্থান অস্বীকার করেন।
চসিক মেয়র ও কয়েকজন কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের একটি প্রস্তাব সম্প্রতি সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই সফরের অনুমোদন দেননি। অনুমোদন না দিয়ে নোটে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “মশক নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই। দেশেই সন্ধ্যার পর যে কোনো ডোবার পাশে দুই-তিন ঘণ্টা অবস্থান করলেই মশক নিধনের অনেক উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব হবে।”
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে একটি কারখানা ও একটি গবেষণাগার পরিদর্শনের পরিকল্পনা ছিল প্রতিনিধিদলের। এই প্রতিনিধিদলে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ছাড়াও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির চৌধুরী এবং ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলামের থাকার কথা ছিল। তাদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
ফেসবুক পোস্টে মেয়র যা লিখেছেন, ভুল তথ্য আর ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে মশক নিধনের বৈপ্লবিক সম্ভাবনা কি ভেস্তে যাবে? সালটা ২০১৬। আমেরিকার মিয়ামি-ডেড কাউন্টিতে যখন মারাত্মক ‘জিকা ভাইরাস’ ছড়িয়ে পড়ে, তখন কোনো প্রচলিত রাসায়নিক স্প্রে দিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না। তখন বিশ্ব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ চক্র সম্পূর্ণভাবে থামিয়ে দিয়েছিল মার্কিন কোম্পানি ‘ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস এলএলসি’ (Valent BioSciences)-এর একটি বিশেষ জৈবিক প্রযুক্তি।
ঠিক একই রকম এক জাদুকরী বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছিল আমাদের চট্টগ্রামেও! গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত (দীর্ঘ ৮ মাস) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকায় এই বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানির মশার লার্ভা নিধনের কেমিকেল ব্যবহার করা হয়। এর কার্যকারিতা ছিল ম্যাজিকের মতো— পানিতে ছিটানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি মশার লার্ভার পাকস্থলী ধ্বংস করে দেয়! সবচেয়ে বড় কথা, এটি সম্পূর্ণ জৈবিক (Biological) হওয়ায় মানুষ, মাছ বা অন্য কোনো জলজ প্রাণীর বিন্দুমাত্র ক্ষতি করে না।
পোস্টে আরও লেখা হয়, এই অভাবনীয় সফলতার পর, প্রতি বছর বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার কেমিকেল আমদানির নির্ভরতা কমাতে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এক দূরদর্শী উদ্যোগ নেন। তিনি বাংলাদেশে ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস-এর সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একটি কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব দেন। এতে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশে কারখানা করার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি চসিক মেয়রের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও ফ্লোরিডা রাজ্যে তাদের মূল কারখানা ও ল্যাব পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সফরের যাবতীয় অর্থায়ন করার কথা ছিল স্বয়ং ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস-এর। অর্থাৎ, সরকারের বা চসিকের খরচ হতো না!
কিন্তু সব প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত, ঠিক তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সফরের বিষয়ে সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে। ফলে দেশের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এই যাত্রাটি এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনাপোল সীমান্তে আটকে থাকা ব্যক্তিদের মানবেতর দিনযাপন: কঠোর অবস্থানে বিজিবি

নিজের ফেসবুক পোস্ট মুছে গণমাধ্যমকে দুষলেন চসিক মেয়র

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

মশা নিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের অনুমোদন না পাওয়ার পেছনে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এই পোস্টকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্ট ডিলিট করে উল্টো গণমাধ্যমকে দুষছেন তিনি।
মেয়র শাহাদাত মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, নিজের নামে গণমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যগুলো তার বক্তব্য নয়। অথচ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন না পাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। একাধিক জাতীয় সংবাদমাধ্যমে তার ফেসবুক পোস্টের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে মেয়র শাহাদাত হোসেনের পোস্টের স্ক্রিনশটও যুক্ত করা হয়েছে।
দুপুরে দেওয়া এই পোস্ট অস্বীকার করে সন্ধ্যায় দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, “মঙ্গলবার প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত কিছু পোস্টে আমার নামে বিভিন্ন বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি সুস্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, উক্ত বিষয় সম্পর্কে আমি কোনো গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার প্রদান করিনি, কোনও সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলিনি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে মন্তব্যকারী কোনও ব্যক্তিকেও কোনও ধরনের বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া প্রদান করিনি। ফলে আমার নামে প্রচারিত বক্তব্যগুলো আমার বক্তব্য নয়।”
প্রকৃত ঘটনা হলো, মশক নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে আধুনিক ও কার্যকর প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকেই বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের পক্ষ থেকে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, আমি তা সম্পূর্ণ শ্রদ্ধার সঙ্গে এবং সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নিয়েছি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সবসময় সরকারের নীতিমালা, আইন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ভবিষ্যতেও সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।”
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে “ভুল তথ্য আর ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে মশক নিধনের বৈপ্লবিক সম্ভাবনা কি ভেস্তে যাবে?” শিরোনামে ফেসবুকে এক পোস্ট করেছিলেন মেয়র শাহাদাত।
ওই পোস্টে আমেরিকার মিয়ামি-ডেড কাউন্টিতে ছড়িয়ে পড়া মারাত্মক ‘জিকা ভাইরাস’ প্রতিরোধে বিশেষ জৈবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কেইস স্টাডি উল্লেখ করে মেয়র লিখেন, “ঠিক একই রকম এক জাদুকরী বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছিল আমাদের চট্টগ্রামেও। সব প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত, ঠিক তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সফরের বিষয়ে সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে। ফলে দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সফরটি এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”
এই পোস্টের সূত্র ধরে দেশের জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। মেয়রের পোস্টোর ভাষা বিএনপির নীতিনির্ধারনী ফোরাম নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণ করতে পারেন বলেও আলোচনা শুরু হয়। এরপর সন্ধ্যায় মেয়র নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট ডিলেট করেন এবং নতুন বিবৃতি দিয়ে আগের অবস্থান অস্বীকার করেন।
চসিক মেয়র ও কয়েকজন কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের একটি প্রস্তাব সম্প্রতি সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই সফরের অনুমোদন দেননি। অনুমোদন না দিয়ে নোটে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “মশক নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই। দেশেই সন্ধ্যার পর যে কোনো ডোবার পাশে দুই-তিন ঘণ্টা অবস্থান করলেই মশক নিধনের অনেক উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব হবে।”
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে একটি কারখানা ও একটি গবেষণাগার পরিদর্শনের পরিকল্পনা ছিল প্রতিনিধিদলের। এই প্রতিনিধিদলে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ছাড়াও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির চৌধুরী এবং ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলামের থাকার কথা ছিল। তাদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
ফেসবুক পোস্টে মেয়র যা লিখেছেন, ভুল তথ্য আর ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে মশক নিধনের বৈপ্লবিক সম্ভাবনা কি ভেস্তে যাবে? সালটা ২০১৬। আমেরিকার মিয়ামি-ডেড কাউন্টিতে যখন মারাত্মক ‘জিকা ভাইরাস’ ছড়িয়ে পড়ে, তখন কোনো প্রচলিত রাসায়নিক স্প্রে দিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না। তখন বিশ্ব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ চক্র সম্পূর্ণভাবে থামিয়ে দিয়েছিল মার্কিন কোম্পানি ‘ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস এলএলসি’ (Valent BioSciences)-এর একটি বিশেষ জৈবিক প্রযুক্তি।
ঠিক একই রকম এক জাদুকরী বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছিল আমাদের চট্টগ্রামেও! গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত (দীর্ঘ ৮ মাস) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকায় এই বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানির মশার লার্ভা নিধনের কেমিকেল ব্যবহার করা হয়। এর কার্যকারিতা ছিল ম্যাজিকের মতো— পানিতে ছিটানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি মশার লার্ভার পাকস্থলী ধ্বংস করে দেয়! সবচেয়ে বড় কথা, এটি সম্পূর্ণ জৈবিক (Biological) হওয়ায় মানুষ, মাছ বা অন্য কোনো জলজ প্রাণীর বিন্দুমাত্র ক্ষতি করে না।
পোস্টে আরও লেখা হয়, এই অভাবনীয় সফলতার পর, প্রতি বছর বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার কেমিকেল আমদানির নির্ভরতা কমাতে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এক দূরদর্শী উদ্যোগ নেন। তিনি বাংলাদেশে ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস-এর সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একটি কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব দেন। এতে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশে কারখানা করার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি চসিক মেয়রের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও ফ্লোরিডা রাজ্যে তাদের মূল কারখানা ও ল্যাব পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সফরের যাবতীয় অর্থায়ন করার কথা ছিল স্বয়ং ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস-এর। অর্থাৎ, সরকারের বা চসিকের খরচ হতো না!
কিন্তু সব প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত, ঠিক তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সফরের বিষয়ে সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে। ফলে দেশের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এই যাত্রাটি এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।