চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি দীর্ঘ সময় ধরে অপরাধ জগতের এক দুর্ভেদ্য ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ি এই জনপদের স্বঘোষিত নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত মো. ইয়াসিন, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘জামাই ইয়াসিন’ নামেই বেশি পরিচিত। পুরো এলাকাটি তার সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় সাধারণ মানুষ তো বটেই, অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে প্রবেশ করতে হিমশিম খান।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, ইয়াসিনের উত্থান অত্যন্ত নাটকীয়। ২০০৩ সালে নোয়াখালী থেকে চট্টগ্রামে এসে একটি জুট মিলে কাজ শুরু করলেও দ্রুতই তিনি অপরাধ জগতের দিকে ঝুঁকে পড়েন। আলীনগর এলাকায় বসতি গড়ার পর তিনি পাহাড় দখল, ভূমি বাণিজ্য এবং অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। অভিযোগ রয়েছে, তার বাহিনীতে অন্তত ৩০০ সদস্য রয়েছে, যারা অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে অভ্যস্ত। সর্বশেষ আলীনগরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনা তার বাহিনীর বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, জঙ্গল সলিমপুরে নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে ইয়াসিন একটি নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছেন। প্রশাসন ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার নাম বারবার উঠে এসেছে। ২০২২ সালে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হলেও আইনি প্রক্রিয়ার ফাঁক গলে তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে পুনরায় অপরাধ জগতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বর্তমানে এই এলাকাটি ইয়াসিন বাহিনীর দৌরাত্ম্যে এক আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























