অগ্ন্যাশয়ের উন্নত স্তরের ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছেন গবেষকেরা। একটি নতুন ট্যাবলেট এই মারণব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকার সময়কে প্রায় দ্বিগুণ করে দিচ্ছে বলে এক গবেষণায় দেখা গেছে। এর মাধ্যমে অন্যতম মারাত্মক এই ক্যানসারের চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত ভালো কোনও চিকিৎসা পাওয়ার আশা তৈরি হয়েছে।
গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের (ইউসিএলএ) ড. জেভ ওয়েনবার্গ বলেন, ‘এটি ক্যানসার নিরাময় বা পুরো ভালো না করলেও, এটি চিকিৎসায় অনেক বড় একটি পদক্ষেপ।’ ‘ড্যারাক্সনরাসিব’ নামের এই ওষুধটি মূলত একটি রূপান্তরিত প্রোটিনকে বাধাগ্রস্ত করে, যা ৯০ শতাংশের বেশি প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারের ক্ষেত্রে টিউমারের বৃদ্ধিতে রসদ হিসেবে কাজ করে।
ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া ৫০০ জন রোগীর ওপর এই পরীক্ষামূলক ওষুধটি প্রয়োগ করা হয়। গবেষণায় অংশ নেওয়া রোগীদের একটি অংশকে এই পরীক্ষামূলক ট্যাবলেট এবং অন্য অংশকে সাধারণ কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। এতে দেখা যায়, প্রতিদিন খাওয়ার এই ট্যাবলেট পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমিয়ে রোগীদের বেঁচে থাকার সময় প্রায় দ্বিগুণ করেছে। গবেষণার এই ফল নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং শিকাগোতে আমেরিকান সোসাইটি ফর ক্লিনিক্যাল অনকোলজির সভাতেও এটি উপস্থাপন করা হয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যারা ড্যারাক্সনরাসিব ট্যাবলেট খেয়েছেন, তারা গড়ে ১৩ দশমিক ২ মাস বেঁচে ছিলেন। অন্যদিকে যারা কেমোথেরাপি নিয়েছেন, তারা বেঁচে ছিলেন ৬ দশমিক ৭ মাস। এই পরিবর্তনটিকে আপাতদৃষ্টিতে সামান্য মনে হতে পারে, তবে ড. ওয়েনবার্গ বলেন, কেমোথেরাপির চেয়ে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেশি সুবিধা দেখিয়েছে এমন এটি প্রথম ওষুধ।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ট্যাবলেটের কার্যকারিতা অবশ্য কমে আসে। তবে কেমোথেরাপির তুলনায় এই ট্যাবলেট সেবনকারী রোগীরা দীর্ঘ সময় ধরে এটি ব্যবহার করতে পেরেছেন। পাশাপাশি টিউমার সংকুচিত হওয়ার কারণে তারা কম ব্যথা অনুভব করেছেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত ছিল। ড. ওয়েনবার্গ জানান, এর অর্থ হলো গবেষকেরা যখন তাদের পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবেন, তখন বেঁচে থাকার সময়ের এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।
রিপোর্টারের নাম 












