মানুষ কেন বার্ধক্যের শিকার হয় এবং জীবনের এক পর্যায়ে কেন সবকিছু থেমে যায়— এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এক নতুন দ্বার উন্মোচন করেছেন। আধুনিক জীববিজ্ঞানের ‘ট্রান্সক্রিপটোমিক্স’ পদ্ধতি ব্যবহার করে তারা কোষের ভেতরের জিনগুলোর কার্যকলাপের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেয়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, মানুষসহ বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে জিনের এই ‘কথাবার্তায়’ কিছু অভিন্ন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। বিজ্ঞানীরা এই পরিবর্তনগুলোকে ‘বার্ধক্য ও মৃত্যুর জিনগত স্বাক্ষর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সম্প্রতি ‘নেচার’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় চার ধরনের স্তন্যপায়ী প্রাণীর (ইঁদুর, বানর, মানুষ এবং অন্য একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী) ১১ হাজারেরও বেশি জিনগত নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বার্ধক্যের সাথে কোন জিনগুলো পরিবর্তিত হয় এবং এই পরিবর্তনগুলো সকল প্রাণীর মধ্যে একই রকম কিনা তা নির্ণয় করা। গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল অত্যন্ত চমকপ্রদ।
গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানবদেহের প্রতিটি কোষের জিনের কার্যক্রমে পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনগুলোর মধ্যে কয়েকটি প্রধান ধারা হলো: প্রথমত, প্রদাহ-সম্পর্কিত জিনগুলোর অতিসক্রিয়তা বৃদ্ধি পায়, যা দীর্ঘমেয়াদী নিম্নমাত্রার প্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং ধীরে ধীরে টিস্যু ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করে। দ্বিতীয়ত, কোষের শক্তি উৎপাদনকারী অঙ্গ মাইটোকন্ড্রিয়া সংক্রান্ত জিনগুলোর কার্যকারিতা কমে যায়, যার ফলে ক্লান্তি, পেশিশক্তি হ্রাস এবং অঙ্গের কর্মক্ষমতা কমে যায়। তৃতীয়ত, ক্ষতিগ্রস্ত প্রোটিন মেরামত বা অপসারণকারী জিনগুলোর কার্যকারিতা হ্রাস পায়, যা কোষের ভেতর ‘জৈব আবর্জনা’ জমতে সাহায্য করে। চতুর্থত, বয়সের সাথে সাথে কোষ বিভাজন ও পুনর্গঠন-সম্পর্কিত জিনগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, ফলে শরীরের পুনর্জন্ম ক্ষমতা কমে যায়।
রিপোর্টারের নাম 

























