রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় দুই যাত্রীকে চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে তাদের মূল্যবান মালামাল ও অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করার সময় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে নৌ পুলিশ। শনিবার (৩০ মে) নৌ পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাতে ভোলা-ইলিশাগামী এমভি ইয়াদ লঞ্চের দ্বিতীয় তলার ডেকে মো. ফারুক (৪৪) নামে ওই ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে এবং অন্য এক যাত্রীর ব্যাগে হাত দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। বিষয়টি সদরঘাট টার্মিনালে দায়িত্বরত নৌ পুলিশকে জানানো হলে ঢাকা সদরঘাট নৌ থানা ও টহলরত নৌ পুলিশের একটি দল দ্রুত লঞ্চে গিয়ে আনসার সদস্য ও লঞ্চকর্মীদের সহায়তায় তাকে আটক করে।
এ সময় ফারুকের পাশে থাকা দুই যাত্রী, মো. নাসিম হাজারী (৬০) ও মো. সাহাবুদ্দিনকে (২৮), তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে লঞ্চ ছাড়ার নির্ধারিত সময় হয়ে যাওয়ায় অন্যান্য যাত্রীর সুবিধার কথা বিবেচনা করে লঞ্চটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরে বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, লঞ্চের মালিকপক্ষ ও কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অসুস্থ দুই যাত্রীকে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটে নামিয়ে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি জানানো হয়। চিকিৎসা শেষে তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন।
নৌ পুলিশ আরও জানায়, মো. ফারুক তার সহযোগীদের সহায়তায় ওই দুই যাত্রীকে চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় খাবার কিংবা দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে তাদের মূল্যবান সামগ্রী ও অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করেছিলেন। পূর্বের রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ফারুকের বিরুদ্ধে ডিএমপির কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা এবং শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার তথ্য পাওয়া গেছে।
এই ঘটনায় ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে নৌ পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























