বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর-চাঁদপুর মহাসড়ক অবরোধ করেছেন হাজার হাজার গ্রাহক ও স্থানীয় বাসিন্দা। গাছ ও বাঁশ ফেলে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে চরপাতা ইউনিয়নের গাছিরহাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
অবরোধের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে, যার ফলে চরম যানজট সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই সময় চাঁদপুর যাওয়ার পথে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়াও অবরোধস্থলে আটকা পড়েন। পরে তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের শান্ত করেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
পরে রাত ১০টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রায়পুর উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি লোডশেডিং অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি ঈদের দিনেও বিদ্যুৎ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরবাড়ির ফ্রিজে রাখা খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
অবরোধের খবর পেয়ে রায়পুর থানা পুলিশ ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার জানান, এই উপজেলায় লোডশেডিংয়ের সমস্যাটি সবচেয়ে গুরুতর। ঈদের দিনেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়পুর পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোশারফ হোসেন জানান, সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে ৩৩ কেভি লাইনের পাশাপাশি অনেক খুঁটি ভেঙে গেছে, তার ছিঁড়ে গেছে এবং ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য কাজ চলছে।
রিপোর্টারের নাম 





















