ঢাকা ০৩:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘ডিপ স্টেট’: অদৃশ্য শক্তির নতুন আলোচনা

দেশ ও বিদেশের রাজনীতিতে ‘ডিপ স্টেট’ বা গুপ্ত শক্তি—এই রহস্যঘেরা শব্দটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি এমন এক অদৃশ্য খেলোয়াড়, যা রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোতে সামরিক, বেসামরিক আমলা এবং ব্যবসায়ীদের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিজ দেশের বাইরেও বিশ্বজুড়ে ‘ডিপ স্টেট’-এর মতো কাজ করে থাকে। সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই শব্দটি বেশ আলোচিত হচ্ছে, যা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সেমিনারে গভীর বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ডিপ স্টেট’ হলো দৃশ্যমান রাষ্ট্রকাঠামো ও সরকারের আড়ালে থেকে কাজ করা এক প্রভাবশালী, স্বার্থান্বেষী ও গুপ্ত নেটওয়ার্ক। যদিও আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান বা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার ও সংসদ সদস্যরা পরিবর্তিত হন, অনেক সময় দেখা যায় পুরোনো শাসনতান্ত্রিক বন্দোবস্ত বা কাঠামোর বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা নতুন সরকারের থাকে না। পর্দার আড়ালের এই শক্তিগুলোই মূলত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে এবং নিজেদের স্বার্থ ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে জাতীয় নীতিকে প্রভাবিত করে।

অনেক সময় সরকার বা নেতৃত্ব এই ব্যবস্থার বাইরে বের হতে চাইলেও, শেষ পর্যন্ত এই সংঘবদ্ধ শক্তির কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। যখন কোনও সরকার স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র বা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার অদৃশ্য বাধার সম্মুখীন হয়, তখনই ‘ডিপ স্টেট’-এর অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়। এতে প্রশ্ন ওঠে—রাষ্ট্রের আসল ক্ষমতা কি নির্বাচিত সরকারের হাতে, নাকি এই গুপ্ত শক্তির কাছে? মজার বিষয় হলো, রাজনৈতিক দলগুলো যখন ক্ষমতার বাইরে থাকে, তখন এই ‘ডিপ স্টেট’-এর চাপ বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তাদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হয়।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের আলোচনায় ‘ডিপ স্টেট’-এর ভূমিকা বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়। যদিও এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সীমিত, তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর ভিন্ন রূপ এবং প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে গভীর পর্যালোচনা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় মসজিদে ফজরের নামাজে গুলি, দুই মুসল্লি আহত

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘ডিপ স্টেট’: অদৃশ্য শক্তির নতুন আলোচনা

আপডেট সময় : ০৮:০৯:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

দেশ ও বিদেশের রাজনীতিতে ‘ডিপ স্টেট’ বা গুপ্ত শক্তি—এই রহস্যঘেরা শব্দটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি এমন এক অদৃশ্য খেলোয়াড়, যা রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোতে সামরিক, বেসামরিক আমলা এবং ব্যবসায়ীদের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিজ দেশের বাইরেও বিশ্বজুড়ে ‘ডিপ স্টেট’-এর মতো কাজ করে থাকে। সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই শব্দটি বেশ আলোচিত হচ্ছে, যা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সেমিনারে গভীর বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ডিপ স্টেট’ হলো দৃশ্যমান রাষ্ট্রকাঠামো ও সরকারের আড়ালে থেকে কাজ করা এক প্রভাবশালী, স্বার্থান্বেষী ও গুপ্ত নেটওয়ার্ক। যদিও আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান বা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার ও সংসদ সদস্যরা পরিবর্তিত হন, অনেক সময় দেখা যায় পুরোনো শাসনতান্ত্রিক বন্দোবস্ত বা কাঠামোর বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা নতুন সরকারের থাকে না। পর্দার আড়ালের এই শক্তিগুলোই মূলত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে এবং নিজেদের স্বার্থ ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে জাতীয় নীতিকে প্রভাবিত করে।

অনেক সময় সরকার বা নেতৃত্ব এই ব্যবস্থার বাইরে বের হতে চাইলেও, শেষ পর্যন্ত এই সংঘবদ্ধ শক্তির কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। যখন কোনও সরকার স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র বা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার অদৃশ্য বাধার সম্মুখীন হয়, তখনই ‘ডিপ স্টেট’-এর অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়। এতে প্রশ্ন ওঠে—রাষ্ট্রের আসল ক্ষমতা কি নির্বাচিত সরকারের হাতে, নাকি এই গুপ্ত শক্তির কাছে? মজার বিষয় হলো, রাজনৈতিক দলগুলো যখন ক্ষমতার বাইরে থাকে, তখন এই ‘ডিপ স্টেট’-এর চাপ বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তাদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হয়।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের আলোচনায় ‘ডিপ স্টেট’-এর ভূমিকা বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়। যদিও এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সীমিত, তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর ভিন্ন রূপ এবং প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে গভীর পর্যালোচনা।