কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আরও একটি ঈদ কেটেছে দীর্ঘশ্বাস আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। উৎসবের দিনে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা যখন আনন্দ-উল্লাসে মেতেছে, তখন উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ঈদ এসেছে বিষাদের বার্তা নিয়ে। প্রায় ১০ বছর ধরে নিজভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন লাখো রোহিঙ্গার জীবনে উৎসবের চিরচেনা আনন্দ অনুপস্থিত।
বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার অনেকেই এবারও ঈদ কাটিয়েছেন অভাব, হতাশা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে। তাদের কাউকেই এখনও স্থায়ীভাবে নিজ দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি। বরং দিন দিন বাড়ছে নতুন অনুপ্রবেশের চাপ।
এক বছর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কক্সবাজারের কুতুপালং শিবিরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতার অনুষ্ঠানে আশা দিয়েছিলেন যে, আগামী ঈদে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ঈদ করতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে প্রত্যাবাসনের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। উল্টো নতুন করে দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং সীমান্তের ওপারে আরও অনেকে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শরণার্থী শিবিরগুলোতে ঈদ এলেও উৎসবের আমেজ নেই। উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই মানবেতর জীবনযাপন করছে। খাবারের সংকট, নিরাপদ পানির অভাব, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।
টেকনাফের লেদা শিবিরের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম জানান, কোরবানির ঈদ হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মাংস সহায়তা পাওয়া যায়নি। টানা তিন বছর ধরে এ ধরনের সহায়তা বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, “নিজ দেশে ঈদ উদযাপন আর ভিনদেশে শরণার্থী হয়ে ঈদ পালন করার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। মিয়ানমারে আমাদের বাপ-দাদার কবর রয়েছে। ঈদের নামাজ শেষে পরিবারের সবাই মিলে কবর জিয়ারত করতাম। এখন আর সেই সুযোগ নেই। এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে?”
রিপোর্টারের নাম 

























