ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

কোরবানির মাংস সংরক্ষণে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়: জেনে নিন বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

কোরবানির ঈদে মাংস সংরক্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিবারে সপ্তাহের পর সপ্তাহ এমনকি মাসের পর মাসও কোরবানির মাংস খাওয়া হয়। তবে ফ্রিজে রাখলেই যে মাংস সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে, এমনটি নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল তাপমাত্রা, অনিরাপদ সংরক্ষণ পদ্ধতি অথবা বারবার গলিয়ে আবার জমিয়ে রাখার কারণে ভালো মাংসও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

খাদ্য নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ ফ্রিজের নরমাল চেম্বারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে কাঁচা গরু বা খাসির মাংস সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। অপরদিকে, ডিপ ফ্রিজ বা ফ্রিজারের তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকলে মাংস দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, গরু বা খাসির মাংস ৪ থেকে ১২ মাস, কিমা করা মাংস ৩ থেকে ৪ মাস এবং রান্না করা মাংস ২ থেকে ৩ মাস ফ্রিজে সাধারণত ভালো থাকে। তবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করলে ধীরে ধীরে মাংসের স্বাদ ও গুণগত মান কমে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফ্রিজে থাকলেই মাংস নিরাপদ—এমন ধারণা ঠিক নয়। কিছু লক্ষণ দেখা দিলে সেই মাংস আর না খাওয়াই ভালো। যেমন— টক বা অস্বাভাবিক গন্ধ, পিচ্ছিল বা আঠালো অনুভূতি, রং কালচে, ধূসর বা সবুজাভ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়া বা বরফ জমে শক্ত হয়ে যাওয়া। তবে সবসময় নষ্ট মাংসে গন্ধ বা রঙের পরিবর্তন দেখা যাবে, এমনও নয়। তাপমাত্রার ভুল ব্যবস্থাপনায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্ম নিতে পারে, যা খালি চোখে বোঝা সম্ভব হয় না।

গরম মাংস সরাসরি ফ্রিজে রাখা ঠিক নয়। কোরবানির পর অনেকেই বড় পাত্রে গরম মাংস ভরে সরাসরি ফ্রিজে রেখে দেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাংস কিছুটা ঠান্ডা করে ছোট ছোট ভাগে আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করা নিরাপদ। তবে দীর্ঘ সময় খোলা জায়গায় ফেলে রাখাও ঠিক নয়।

একবার ফ্রিজ থেকে বের করে পুরো মাংস গলানোর পর আবার সেটি জমিয়ে রাখলে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে কক্ষ তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় রেখে দিলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঈদের সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকলে জমাট মাংস ধীরে ধীরে গলতে শুরু করে, যা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির চামড়া অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, হতাশ বিক্রেতারা

কোরবানির মাংস সংরক্ষণে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়: জেনে নিন বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

কোরবানির ঈদে মাংস সংরক্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিবারে সপ্তাহের পর সপ্তাহ এমনকি মাসের পর মাসও কোরবানির মাংস খাওয়া হয়। তবে ফ্রিজে রাখলেই যে মাংস সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে, এমনটি নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল তাপমাত্রা, অনিরাপদ সংরক্ষণ পদ্ধতি অথবা বারবার গলিয়ে আবার জমিয়ে রাখার কারণে ভালো মাংসও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

খাদ্য নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ ফ্রিজের নরমাল চেম্বারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে কাঁচা গরু বা খাসির মাংস সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। অপরদিকে, ডিপ ফ্রিজ বা ফ্রিজারের তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকলে মাংস দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, গরু বা খাসির মাংস ৪ থেকে ১২ মাস, কিমা করা মাংস ৩ থেকে ৪ মাস এবং রান্না করা মাংস ২ থেকে ৩ মাস ফ্রিজে সাধারণত ভালো থাকে। তবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করলে ধীরে ধীরে মাংসের স্বাদ ও গুণগত মান কমে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফ্রিজে থাকলেই মাংস নিরাপদ—এমন ধারণা ঠিক নয়। কিছু লক্ষণ দেখা দিলে সেই মাংস আর না খাওয়াই ভালো। যেমন— টক বা অস্বাভাবিক গন্ধ, পিচ্ছিল বা আঠালো অনুভূতি, রং কালচে, ধূসর বা সবুজাভ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়া বা বরফ জমে শক্ত হয়ে যাওয়া। তবে সবসময় নষ্ট মাংসে গন্ধ বা রঙের পরিবর্তন দেখা যাবে, এমনও নয়। তাপমাত্রার ভুল ব্যবস্থাপনায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্ম নিতে পারে, যা খালি চোখে বোঝা সম্ভব হয় না।

গরম মাংস সরাসরি ফ্রিজে রাখা ঠিক নয়। কোরবানির পর অনেকেই বড় পাত্রে গরম মাংস ভরে সরাসরি ফ্রিজে রেখে দেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাংস কিছুটা ঠান্ডা করে ছোট ছোট ভাগে আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করা নিরাপদ। তবে দীর্ঘ সময় খোলা জায়গায় ফেলে রাখাও ঠিক নয়।

একবার ফ্রিজ থেকে বের করে পুরো মাংস গলানোর পর আবার সেটি জমিয়ে রাখলে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে কক্ষ তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় রেখে দিলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঈদের সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকলে জমাট মাংস ধীরে ধীরে গলতে শুরু করে, যা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।