বৈরী আবহাওয়া ও রাতভর ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত। আয়তনের দিক থেকে এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম এই ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৯টায় মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমীর ইমামতিতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। ৫২ গম্বুজবিশিষ্ট ঈদগাহ মিনারের সামনে প্রায় ২২ একর আয়তনের বিশাল মাঠে নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
বড় এই জামাতে অংশ নিতে দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভোর থেকেই মুসল্লিরা মাঠে আসতে শুরু করেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নামাজ আদায় করতে পেরে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ঈদের জামাতকে ঘিরে কয়েকদিন ধরেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। পুরো মাঠ রোলার দিয়ে সমান করা হয় এবং সবুজ ঘাসের ওপর চুন দিয়ে কাতারের দাগ টানা হয়। মুসল্লিদের ওজু, পরিচ্ছন্নতা এবং নির্বিঘ্ন প্রবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মাঠের চারপাশে তৈরি করা হয় ২০টি প্রবেশদ্বার।
নিরাপত্তা জোরদারে স্থাপন করা হয় তিনটি ওয়াচ টাওয়ার। সেখান থেকে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। মাঠে প্রবেশের আগে মুসল্লিদের মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হয় এবং পুরো ঈদগাহ এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়।
মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আনসার এবং স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিটি কাতারে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন। এছাড়া ইমামের খুতবা ও নামাজের শব্দ সবার কাছে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হয় প্রায় ১০০টি মাইক।
রিপোর্টারের নাম 
























