অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। ফিলিস্তিনি গ্রাম ও জনপদগুলোতে সাম্প্রতিক এসব হামলাকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করে দেশটি জানিয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পৃক্ততাও লক্ষ্য করা গেছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) ফিলিস্তিনবিষয়ক এক বিশেষ বৈঠকে এ অবস্থান তুলে ধরেন জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের স্থায়ী প্রতিনিধি সারাহ ম্যাকিনটোশ। তিনি বলেন, পশ্চিম তীরের এই সহিংস পরিস্থিতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি গভীর সংকটের প্রতিফলন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র গত জুলাই মাসেই এসব সহিংসতায় ১৩ জন ফিলিস্তিনি ও ২ জন ইসরায়েলি প্রাণ হারিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয়ের (ওসিএইচএ) তথ্যের বরাতে ব্রিটিশ প্রতিনিধি জানান, জুলাই মাসে বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ৩০০টিরও বেশি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর ফলে ২৫০টিরও বেশি ফিলিস্তিনি জনপদ প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন এবং ৩ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।
সারাহ ম্যাকিনটোশ তার বক্তব্যে শিশুদের ওপর এই সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, অব্যাহত সহিংসতা, উচ্ছেদ এবং চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে শিশুদের স্বাভাবিক জীবন ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে সামরিক অভিযানগুলো শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সহিংসতায় জড়িতদের বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্রিটিশ প্রতিনিধি আরও বলেন, অপরাধীরা দীর্ঘদিন ধরে দায়মুক্তি ভোগ করে আসছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে অধিকৃত ভূখণ্ডের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েল সরকারকে তাদের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
রিপোর্টারের নাম 


















