ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

দুর্গম চরে নিরাপদ মাতৃত্বে নতুন আশা: ব্র্যাকের সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবদান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

প্রকৃতির প্রতিকূলতা পেরিয়েও নিরাপদ প্রসবের নিশ্চয়তা পাচ্ছে বাংলাদেশের দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষেরা। এমনই এক চিত্র দেখা গেছে যমুনার বুকে জেগে ওঠা চর ঘোরজানের মানুষের জীবনে, যেখানে ব্র্যাকের একটি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন নিরাপদ মাতৃত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ২০ বছর বয়সী মুর্শিদা আক্তার এই কেন্দ্রের সুফল ভোগ করেছেন। তিনি তার দ্বিতীয় সন্তানকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম দিয়েছেন, যেখানে যাতায়াতের কষ্ট এবং ঝুঁকি অনেক কমে এসেছে।

মুর্শিদা জানান, প্রথম সন্তানের জন্মের সময় তাকে অনেক কষ্ট করে শাহজাদপুর যেতে হয়েছিল, যেখানে নৌকা, বাইক ও সিএনজি বদলাতে হতো। এবার এত দূর যেতে হয়নি। মাত্র ৪০০ টাকা খরচে নরমাল ডেলিভারি হওয়ায় তিনি আনন্দিত। তিনি আরও জানান, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অসচ্ছল পরিবারের কাছ থেকে যথাসম্ভব কম টাকা নেওয়া হয়। গর্ভধারণের পর থেকেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীরা বাড়িতে গিয়ে তার চেকআপ করেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন এবং ওষুধও সরবরাহ করেছেন। শুধু মুর্শিদাই নন, এই কেন্দ্রের কর্মীরা সকল গর্ভবতী নারীকে বাড়িতে গিয়ে সেবা দিয়ে থাকেন।

এই সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি হওয়ার আগে প্রসবের জন্য শাহজাদপুর যেতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চরের এবড়োখেবড়ো মেঠোপথ, খানাখন্দ, খাল ও ঝোপঝাড় পেরিয়ে দীর্ঘ যাত্রা মা ও অনাগত সন্তানের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করত। অতীতে এমন দুর্গম পথ পাড়ি দিতে গিয়ে বা ডেলিভারির সময় অনেকের মৃত্যুও হয়েছে। চৌহালী উপজেলার আসমা আক্তারও এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সন্তান প্রসব করাতে এসেছেন। তার মতো আরও অনেকেই এই কেন্দ্র থেকে উপকৃত হচ্ছেন, যা দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জন্য ‘নিরাপদ মাতৃত্বের’ এক বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির চামড়া অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, হতাশ বিক্রেতারা

দুর্গম চরে নিরাপদ মাতৃত্বে নতুন আশা: ব্র্যাকের সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবদান

আপডেট সময় : ১০:২১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

প্রকৃতির প্রতিকূলতা পেরিয়েও নিরাপদ প্রসবের নিশ্চয়তা পাচ্ছে বাংলাদেশের দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষেরা। এমনই এক চিত্র দেখা গেছে যমুনার বুকে জেগে ওঠা চর ঘোরজানের মানুষের জীবনে, যেখানে ব্র্যাকের একটি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন নিরাপদ মাতৃত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ২০ বছর বয়সী মুর্শিদা আক্তার এই কেন্দ্রের সুফল ভোগ করেছেন। তিনি তার দ্বিতীয় সন্তানকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম দিয়েছেন, যেখানে যাতায়াতের কষ্ট এবং ঝুঁকি অনেক কমে এসেছে।

মুর্শিদা জানান, প্রথম সন্তানের জন্মের সময় তাকে অনেক কষ্ট করে শাহজাদপুর যেতে হয়েছিল, যেখানে নৌকা, বাইক ও সিএনজি বদলাতে হতো। এবার এত দূর যেতে হয়নি। মাত্র ৪০০ টাকা খরচে নরমাল ডেলিভারি হওয়ায় তিনি আনন্দিত। তিনি আরও জানান, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অসচ্ছল পরিবারের কাছ থেকে যথাসম্ভব কম টাকা নেওয়া হয়। গর্ভধারণের পর থেকেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীরা বাড়িতে গিয়ে তার চেকআপ করেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন এবং ওষুধও সরবরাহ করেছেন। শুধু মুর্শিদাই নন, এই কেন্দ্রের কর্মীরা সকল গর্ভবতী নারীকে বাড়িতে গিয়ে সেবা দিয়ে থাকেন।

এই সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি হওয়ার আগে প্রসবের জন্য শাহজাদপুর যেতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চরের এবড়োখেবড়ো মেঠোপথ, খানাখন্দ, খাল ও ঝোপঝাড় পেরিয়ে দীর্ঘ যাত্রা মা ও অনাগত সন্তানের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করত। অতীতে এমন দুর্গম পথ পাড়ি দিতে গিয়ে বা ডেলিভারির সময় অনেকের মৃত্যুও হয়েছে। চৌহালী উপজেলার আসমা আক্তারও এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সন্তান প্রসব করাতে এসেছেন। তার মতো আরও অনেকেই এই কেন্দ্র থেকে উপকৃত হচ্ছেন, যা দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জন্য ‘নিরাপদ মাতৃত্বের’ এক বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।