কোরবানির ঈদ মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই সময়ে পশু জবাই, মাংস প্রস্তুতসহ বিভিন্ন কাজে ধারালো ছুরি, চাপাতি ও কাচির ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে সামান্য অসতর্কতা থেকে ঘটতে পারে গুরুতর দুর্ঘটনা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর ঈদের সময় অসাবধানতাবশত হাত-পা কেটে যাওয়া, আঙুলে গভীর ক্ষত বা শিশুদের আহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে।
তাই কোরবানির প্রস্তুতির পাশাপাশি ধারালো সরঞ্জাম ব্যবহারে সচেতনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।
ধারালো ছুরি ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। অভিজ্ঞদের মতে, ভোঁতা ছুরির চেয়ে অতিরিক্ত ধারালো বা অনিয়ন্ত্রিত ছুরি বেশি বিপজ্জনক। কারণ জবাই বা মাংস কাটার সময় হাত ফসকে সহজেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ সময় বিশেষ কয়েকটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, যেমন— ছুরি ব্যবহারের সময় হাত শুকনো রাখা, শিশুদের নাগালের বাইরে ধারালো সরঞ্জাম রাখা, কাজ শেষে ছুরি নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করা, তাড়াহুড়া করে মাংস কাটতে না যাওয়া এবং পিচ্ছিল স্থানে জবাই বা কাটাকাটি পরিহার করা।
শিশুদের নিরাপত্তায় বাড়তি নজর রাখা জরুরি। ঈদের সময় পরিবারের ছোট সদস্যরা কোরবানির প্রস্তুতি দেখতে আগ্রহী থাকে। কিন্তু অনেক সময় খেলতে গিয়ে তারা ছুরি বা কাচির সংস্পর্শে চলে আসতে পারে। দুর্ঘটনা এড়াতে শিশুদের জবাই বা মাংস কাটার স্থান থেকে দূরে রাখা উচিত।
দুর্ঘটনা ঘটলে কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেমন— ১. কেটে গেলে প্রথমে পরিষ্কার কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে রক্তপাত বন্ধের চেষ্টা করতে হবে। ২. ক্ষতস্থান পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুতে হবে। ৩. গভীর ক্ষত হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে। ৪. মরিচা ধরা ছুরি বা নোংরা সরঞ্জামে আঘাত পেলে টিটেনাসের ঝুঁকি থাকে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ জরুরি।
স্বাস্থ্যবিধিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শুধু নিরাপত্তা নয়, পরিচ্ছন্নতাও সমান জরুরি। অপরিষ্কার ছুরি বা একই সরঞ্জাম দীর্ঘসময় ব্যবহার করলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই নিয়মিত গরম পানি ও জীবাণুনাশক দিয়ে সরঞ্জাম পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সচেতনতাই হতে পারে দুর্ঘটনা প্রতিরোধের উপায়। কোরবানির ঈদ আনন্দ ও ত্যাগের বার্তা বহন করে। তবে সামান্য অসতর্কতা সেই আনন্দকে দুর্ঘটনায় পরিণত করতে পারে। তাই পশু কোরবানির সময় প্রশিক্ষিত ব্যক্তির সহায়তা নেওয়া এবং ছুরি-কাচি ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করাই নিরাপদ ঈদ উদযাপনের অন্যতম উপায়।
রিপোর্টারের নাম 

























