বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলায় দেড় মাসের ব্যবধানে এক দম্পতির আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের দূর্লভপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে গৃহবধূ রত্না রানী সরকার (৩০) বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
স্থানীয়দের ধারণা, চরম ঋণ ও মানসিক চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত রত্না রানী সরকার ছিলেন নবসৃষ্ট মোকামতলা উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের মৃত রতন সরকারের স্ত্রী। প্রায় দেড় মাস আগে তার স্বামী রতন সরকারও ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করে আত্মহত্যা করেছিলেন।
স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে রত্না রানী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। স্বামীর ঋণের বোঝা তার ওপর এসে পড়ায় তিনি আরও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি নিজ ঘরে বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করেন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় গাংনগর বাজারে একজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান শাহীন জানিয়েছেন, রত্না রানী সরকারের লাশ শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দেড় মাস আগে তার স্বামীও একইভাবে বিষপানে আত্মহত্যা করেছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে রত্না রানী সরকারের আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এই ঘটনায় থানায় আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















