দেশের অধিকাংশ হাসপাতাল ও ক্লিনিক নির্ধারিত বিল্ডিং কোড এবং স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত অবকাঠামোগত মানদণ্ড পুরোপুরি মেনে পরিচালিত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ও মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ আখতার মাহমুদ এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন যে, প্রতিটি ভবনের ব্যবহারিক ধরন অনুযায়ী তার নকশা হওয়া উচিত। যেমন একটি স্কুলের নকশা স্কুলের উপযোগী হবে, তেমনি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের ভবনও স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্মাণ করা অত্যাবশ্যক। কারণ, এগুলো বিশেষায়িত সেবার জায়গা। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের করিডর, রোগী চলাচলের ব্যবস্থা, লিফট, সিঁড়ি, জরুরি নির্গমন পথ এবং কক্ষের বিন্যাস—সবকিছুই নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী হওয়া জরুরি। হাসপাতাল একটি জনসেবামূলক ও উচ্চঝুঁকিপূর্ণ স্থান হওয়ায় এর জন্য সুনির্দিষ্ট বিল্ডিং কোড ও নকশাগত নির্দেশনা রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হয় না।
আখতার মাহমুদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে প্রায়শই দেখা যায়, আবাসিক ভবনকে রূপান্তর করে ক্লিনিক বা হাসপাতাল বানানো হচ্ছে, অথচ ওই ভবন স্বাস্থ্যসেবার জন্য পরিকল্পিত নয়। এটিই মূল সমস্যা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যসেবার জন্য নির্মিত ভবন যেন স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা ও নিরাপত্তাকে সামনে রেখে নকশা করা হয়, সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি; অন্যথায় রোগী ও সেবাদান—উভয় ক্ষেত্রেই মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়।
স্বাস্থ্য খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই নগর পরিকল্পনাবিদ। তার মতে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা বর্তমানে অনেকাংশেই চিকিৎসানির্ভর পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় নয়। সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছে। তিনি মনে করেন, বেসরকারি অনেক হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মূলত লাভকেন্দ্রিক চিন্তায় পরিচালিত হয়। কম বিনিয়োগে কীভাবে বেশি মুনাফা করা যায়, সেই প্রবণতা থেকেই অনেক সময় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা অবকাঠামোগত নির্দেশনা উপেক্ষা করা হয়। কম জায়গায় বেশি রোগী, বেশি চিকিৎসক বা বেশি সেবা বসানো গেলেই তাদের লাভ বাড়ে। তবে আলোচনায় আসা আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনকে সংশ্লিষ্টরা সাধারণ অর্থে ব্যক্তিমালিকানাধীন বাণিজ্যিক হাসপাতাল নয়, বরং একটি অলাভজনক দাতব্য সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























