ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নিখোঁজ নারীর আড়ালে চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের রহস্য

২০১২ সালে বিধবা কমলা খাতুন ২২ বছর বয়সে বিপত্নীক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন। তাদের সংসারে নোমান নামে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। আবুল কালাম আজাদের প্রথম সংসারে পাঁচ ছেলে ছিল, যাদের মধ্যে তিনজন এখনো জীবিত। সৎ সন্তানদের নিয়ে কমলা খাতুন একটি বড় পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন।

প্রায় সাত-আট বছর আগে আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুর পর কমলা খাতুন তার একমাত্র ছেলে নোমান এবং সৎ সন্তানদের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সবকিছু পাল্টে যায়।

গত ১০ মার্চ, কমলা খাতুনের সৎ ছেলে জিয়াউর রহমান সাগর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আগের দিন ৯ মার্চ থেকে তার সৎ মা নিখোঁজ রয়েছেন এবং মোবাইল ফোনেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

খবর পেয়ে কমলা খাতুনের ছোট বোন রহিমা বেগম উদ্বিগ্ন হয়ে ছুটে আসেন। তিনি সৎ ছেলে জিয়াউর রহমান সাগর ও সাইফুল ইসলাম রাজনের কাছে বোনের খোঁজ জানতে চাইলে তারাও জানান যে, কমলা খাতুনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেন এবং থানায় জিডি করার কথাও জানান।

তবে তাদের কথায় পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারেননি রহিমা বেগম। বোনের হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার মনে গভীর সন্দেহ জাগে। তিনি পুরো ঘটনাতেই অস্বাভাবিক কিছু আঁচ করতে শুরু করেন।

অবশেষে, নিজেই বাদী হয়ে গত ১৪ মার্চ নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাগর (৩৫), রাজু (৩০), শ্যামলী (৪৫) ও কাজল (৩৮)—এই চারজনকে সন্দেহভাজন বিবাদী করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত প্রথমে নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে আরও গভীর ও বিস্তারিত তদন্তের স্বার্থে মামলাটি সিআইডি নোয়াখালীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর শুরু হয় সন্তানসহ এক নিখোঁজ নারীর রহস্য উদ্ঘাটনের দীর্ঘ অনুসন্ধান। প্রায় তিন মাস ধরে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ, গোপন অনুসন্ধান এবং সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পর অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় ৫০ অসহায় পরিবারে নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েল বিতরণ

নিখোঁজ নারীর আড়ালে চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের রহস্য

আপডেট সময় : ১২:১২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

২০১২ সালে বিধবা কমলা খাতুন ২২ বছর বয়সে বিপত্নীক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন। তাদের সংসারে নোমান নামে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। আবুল কালাম আজাদের প্রথম সংসারে পাঁচ ছেলে ছিল, যাদের মধ্যে তিনজন এখনো জীবিত। সৎ সন্তানদের নিয়ে কমলা খাতুন একটি বড় পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন।

প্রায় সাত-আট বছর আগে আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুর পর কমলা খাতুন তার একমাত্র ছেলে নোমান এবং সৎ সন্তানদের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সবকিছু পাল্টে যায়।

গত ১০ মার্চ, কমলা খাতুনের সৎ ছেলে জিয়াউর রহমান সাগর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আগের দিন ৯ মার্চ থেকে তার সৎ মা নিখোঁজ রয়েছেন এবং মোবাইল ফোনেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

খবর পেয়ে কমলা খাতুনের ছোট বোন রহিমা বেগম উদ্বিগ্ন হয়ে ছুটে আসেন। তিনি সৎ ছেলে জিয়াউর রহমান সাগর ও সাইফুল ইসলাম রাজনের কাছে বোনের খোঁজ জানতে চাইলে তারাও জানান যে, কমলা খাতুনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেন এবং থানায় জিডি করার কথাও জানান।

তবে তাদের কথায় পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারেননি রহিমা বেগম। বোনের হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার মনে গভীর সন্দেহ জাগে। তিনি পুরো ঘটনাতেই অস্বাভাবিক কিছু আঁচ করতে শুরু করেন।

অবশেষে, নিজেই বাদী হয়ে গত ১৪ মার্চ নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাগর (৩৫), রাজু (৩০), শ্যামলী (৪৫) ও কাজল (৩৮)—এই চারজনকে সন্দেহভাজন বিবাদী করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত প্রথমে নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে আরও গভীর ও বিস্তারিত তদন্তের স্বার্থে মামলাটি সিআইডি নোয়াখালীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর শুরু হয় সন্তানসহ এক নিখোঁজ নারীর রহস্য উদ্ঘাটনের দীর্ঘ অনুসন্ধান। প্রায় তিন মাস ধরে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ, গোপন অনুসন্ধান এবং সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পর অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে।