ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নাইক্ষ্যংছড়িতে মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে পৃথক তিনটি স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় তাদের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। রবিবার (২৪ মে) দুপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছেন।

পুলিশ এবং স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সীমান্ত এলাকায় বাগানের কাজ করতে গিয়ে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন – অংক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা (৪০), চিংক্ষ্যং তঞ্চঙ্গ্যা (৩২) এবং চপোচিং তঞ্চঙ্গ্যা ওরফে লেরাইয়া (৩৫)। তাদের সকলের বাড়ি নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়ায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফলের বাগানে কাজ করার সময় প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে একজন গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করতে অন্য সহকর্মীরা এগিয়ে গেলে দ্বিতীয় এবং পরে তৃতীয় বিস্ফোরণ ঘটে। উপর্যুপরি এই তিনটি বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কাজ করতে যাওয়া লোকজন দ্রুত পাড়ায় ফিরে এসে খবর দেয়। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, তারা জীবন-জীবিকার তাগিদে শূন্যরেখার কাছাকাছি এলাকায় বাগান ও চাষাবাদ করেন। গত বছরও বাগানে কাজ করতে গিয়ে দুজন নিখোঁজ হয়েছিলেন এবং একজন নারী মাইন বিস্ফোরণে দুই পা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আজকের এই ঘটনায় সীমান্তের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছেন।

ঘটনাটি ৪১ সীমান্ত পিলার এলাকায় ঘটলেও, বিস্ফোরণের স্থানটি শূন্যরেখার ভেতরে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডের এত কাছাকাছি শক্তিশালী স্থলমাইন কারা স্থাপন করেছে, তা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং এটি কারা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় ৫০ অসহায় পরিবারে নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েল বিতরণ

নাইক্ষ্যংছড়িতে মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে পৃথক তিনটি স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় তাদের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। রবিবার (২৪ মে) দুপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছেন।

পুলিশ এবং স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সীমান্ত এলাকায় বাগানের কাজ করতে গিয়ে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন – অংক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা (৪০), চিংক্ষ্যং তঞ্চঙ্গ্যা (৩২) এবং চপোচিং তঞ্চঙ্গ্যা ওরফে লেরাইয়া (৩৫)। তাদের সকলের বাড়ি নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়ায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফলের বাগানে কাজ করার সময় প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে একজন গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করতে অন্য সহকর্মীরা এগিয়ে গেলে দ্বিতীয় এবং পরে তৃতীয় বিস্ফোরণ ঘটে। উপর্যুপরি এই তিনটি বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কাজ করতে যাওয়া লোকজন দ্রুত পাড়ায় ফিরে এসে খবর দেয়। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, তারা জীবন-জীবিকার তাগিদে শূন্যরেখার কাছাকাছি এলাকায় বাগান ও চাষাবাদ করেন। গত বছরও বাগানে কাজ করতে গিয়ে দুজন নিখোঁজ হয়েছিলেন এবং একজন নারী মাইন বিস্ফোরণে দুই পা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আজকের এই ঘটনায় সীমান্তের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছেন।

ঘটনাটি ৪১ সীমান্ত পিলার এলাকায় ঘটলেও, বিস্ফোরণের স্থানটি শূন্যরেখার ভেতরে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডের এত কাছাকাছি শক্তিশালী স্থলমাইন কারা স্থাপন করেছে, তা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং এটি কারা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।