ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

বেনাপোল বন্দরে ঈদ উপলক্ষে টানা ৭ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে টানা সাত দিনের জন্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানিয়েছেন, আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি, কাস্টমস কার্যক্রম এবং বন্দরের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে ১ জুন সকাল থেকে আবার স্বাভাবিকভাবে সব কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি জানান, বাস্তবে ২৪ মে বিকেল থেকেই দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীরা ঈদের ছুটি কাটাতে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাবেন। যদিও বেনাপোল কাস্টমস হাউজ ঈদের দিন ছাড়া অন্য দিনগুলোতে সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে, তবুও অধিকাংশ আমদানিকারক ছুটিতে থাকায় পণ্য খালাস কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকবে।

বন্দর সূত্র জানিয়েছে, সরকার ঘোষিত সাত দিনের ঈদ ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে ছুটির পুরো সময়জুড়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও ১ জুন থেকে পুনরায় পণ্য খালাস, আমদানি-রপ্তানি এবং কাস্টমস কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. শামীম হোসেন বলেছেন, দীর্ঘ ছুটির সময়ে বন্দরে কোনো ধরনের নাশকতা, চুরি বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার সদস্যরা দিন-রাত টহল দেবেন। পাশাপাশি স্থানীয় থানা পুলিশকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ছুটির মধ্যেও কোনো আমদানিকারক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পণ্য খালাস করতে চাইলে সেই সুযোগ রাখা হবে।

অন্যদিকে, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন, ঈদের সময় বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত নজরদারি থাকবে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত থাকবে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে। বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী জানিয়েছেন, ঈদের সময় যাত্রীচাপ সাধারণত বেড়ে যায়। তাই ইমিগ্রেশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি না হয়।

বেনাপোল বন্দর দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর এবং ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। ফলে সাত দিনের এই বিরতি বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেললেও ঈদ-পরবর্তী সময়ে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদের প্রথম দিনেই সাভার ট্যানারিতে প্রবেশ করলো ২ লক্ষাধিক কাঁচা চামড়া

বেনাপোল বন্দরে ঈদ উপলক্ষে টানা ৭ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

আপডেট সময় : ০৩:০৭:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে টানা সাত দিনের জন্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানিয়েছেন, আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি, কাস্টমস কার্যক্রম এবং বন্দরের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে ১ জুন সকাল থেকে আবার স্বাভাবিকভাবে সব কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি জানান, বাস্তবে ২৪ মে বিকেল থেকেই দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীরা ঈদের ছুটি কাটাতে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাবেন। যদিও বেনাপোল কাস্টমস হাউজ ঈদের দিন ছাড়া অন্য দিনগুলোতে সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে, তবুও অধিকাংশ আমদানিকারক ছুটিতে থাকায় পণ্য খালাস কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকবে।

বন্দর সূত্র জানিয়েছে, সরকার ঘোষিত সাত দিনের ঈদ ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে ছুটির পুরো সময়জুড়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও ১ জুন থেকে পুনরায় পণ্য খালাস, আমদানি-রপ্তানি এবং কাস্টমস কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. শামীম হোসেন বলেছেন, দীর্ঘ ছুটির সময়ে বন্দরে কোনো ধরনের নাশকতা, চুরি বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার সদস্যরা দিন-রাত টহল দেবেন। পাশাপাশি স্থানীয় থানা পুলিশকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ছুটির মধ্যেও কোনো আমদানিকারক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পণ্য খালাস করতে চাইলে সেই সুযোগ রাখা হবে।

অন্যদিকে, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন, ঈদের সময় বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত নজরদারি থাকবে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত থাকবে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে। বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী জানিয়েছেন, ঈদের সময় যাত্রীচাপ সাধারণত বেড়ে যায়। তাই ইমিগ্রেশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি না হয়।

বেনাপোল বন্দর দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর এবং ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। ফলে সাত দিনের এই বিরতি বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেললেও ঈদ-পরবর্তী সময়ে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।