প্রতারণা মামলায় মূল আসামির পরিবর্তে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেল খাটতে আসা এক নারীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, শারমিন আক্তার একা নামের এক আসামির পরিবর্তে তার ফুফাতো বোন ভাবনা আক্তার আদালতে হাজির হয়েছিলেন। এই প্রতারণার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন একার ফুফু লাইলী আক্তার মুন্নি এবং জনৈক সোহেল ফকির।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে একা ও লাইলী নামে দুই আসামি আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে পরবর্তী শুনানির সময় বাদীপক্ষের আইনজীবীর সন্দেহ হলে তিনি আদালতকে জানান যে, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা নারী প্রকৃত আসামি একা নন। এরপর আদালতের নির্দেশে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে এবং ওই নারীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ভাবনা আক্তার স্বীকার করেন যে, তিনি প্রকৃত আসামি নন। তিনি ওয়ারী এলাকার বাসিন্দা এবং একার ফুফাতো বোন। তার ফুফু মুন্নি এবং সোহেল ফকির তাকে প্ররোচিত করেছিলেন একার পরিচয় দিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, ভাবনা একার পরিচয় দিয়ে জামিন নিয়ে নেবেন এবং এ বিষয়ে আইনজীবীদেরও অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।
তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভাবনা একজন ডিভোর্সি নারী এবং তার পাঁচ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তাকে এই জালিয়াতির কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। আদালতকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রকৃত আসামি একাকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























