জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে যে, সম্ভাব্য টিকা সংকটের বিষয়ে তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছিল। সংস্থাটির মতে, চিঠি ও বৈঠকের মাধ্যমে বারবার সতর্ক করার পরও টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে দেশে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ মে) ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব দেশের জন্য বড় সংকট তৈরি করেছে। তিনি আরও জানান, ইউনিসেফ ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি সতর্কতামূলক চিঠি পাঠিয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় ১০টি বৈঠক করেছে।
রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম এবং সামনে বড় সংকট আসছে বলে সরকারকে জানিয়েছিলাম।’ তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার কারণেই সময়মতো দেশে টিকা পৌঁছায়নি। তিনি উল্লেখ করেন যে, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত, যখন দেশটি ইতোমধ্যেই সরবরাহ সংকটে ছিল, পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। ইউনিসেফ তখনও সতর্ক করেছিল যে উন্মুক্ত দরপত্রের কারণে টিকা পৌঁছাতে আরও দেরি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছর বাংলাদেশে ৬০ হাজারের বেশি হাম সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই শিশু। এতে অন্তত ৪৭৫ জন মারা গেছে। গত আড়াই দশকে দেশে এক বছরে এত বেশি হাম সংক্রমণ আর দেখা যায়নি। তবে, ইউনিসেফ প্রতিনিধি জানান যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে হাম টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















