ঢাকা ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

প্রমিকাকে বিয়ে করতে চাওয়া প্রবাসীর লাশ মিলল খণ্ডিত অবস্থায়, প্রেমিকা গ্রেফতার

রাজধানীর মুগদায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম হত্যা মামলার প্রধান আসামি তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) সকালে নরসিংদীর শিবপুর থানার জয়নগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জালাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সহায়তায় তাসলিমাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন জানানো হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা মোকাররম মিয়া (৩৮)। গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে আগের সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি মুগদার মান্ডা প্রথম গলিতে প্রেমিকা তাসলিমার বড় বোনের ভাড়া বাসায় ওঠেন। গত ১৭ মে দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ মান্ডা প্রথম গলির একটি ভবনের নিচে আবর্জনার স্তূপ থেকে সাতটি কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথা ও বাম হাতবিহীন খণ্ডিত, অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পিবিআইয়ের সহায়তায় মরদেহটি মোকাররমের বলে শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মোকাররমের সঙ্গে তাসলিমার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সূত্রে তাসলিমা মোকাররমের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নেন। গত ১৪ মে দুপুরে মোকাররম ওই টাকা ফেরত চান এবং তাসলিমাকে তার স্বামীকে ছেড়ে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। এতে দু’জনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। পুলিশের দাবি, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাসলিমা পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মোকাররমকে খাওয়ান। তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে তাসলিমা, তার বোন হেলেনা ও ভাগ্নি হালিমা আক্তার মিলে মোকাররমকে হত্যা করে। হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশে বাথরুমে নিয়ে মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে খণ্ডিত অংশগুলো কালো পলিথিনে মুড়িয়ে মানিকনগর বালুর মাঠ ও মান্ডার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তাসলিমা মোকাররমের লাগেজ ও তার চার বছরের শিশুকে নিয়ে নরসিংদীতে আত্মগোপনে চলে যান বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে, গত ১৮ মে এই মামলার এক নম্বর আসামি হেলেনা বেগম ও তার মেয়ে হালিমা আক্তারকে গ্রেফতার করে। পরে হেলেনা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিকনগর বালুর মাঠ এলাকা থেকে মোকাররমের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিক্ষোভের পর মুক্তি পেলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা সহ কংগ্রেস নেতারা

প্রমিকাকে বিয়ে করতে চাওয়া প্রবাসীর লাশ মিলল খণ্ডিত অবস্থায়, প্রেমিকা গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

রাজধানীর মুগদায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম হত্যা মামলার প্রধান আসামি তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) সকালে নরসিংদীর শিবপুর থানার জয়নগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জালাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সহায়তায় তাসলিমাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন জানানো হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা মোকাররম মিয়া (৩৮)। গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে আগের সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি মুগদার মান্ডা প্রথম গলিতে প্রেমিকা তাসলিমার বড় বোনের ভাড়া বাসায় ওঠেন। গত ১৭ মে দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ মান্ডা প্রথম গলির একটি ভবনের নিচে আবর্জনার স্তূপ থেকে সাতটি কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথা ও বাম হাতবিহীন খণ্ডিত, অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পিবিআইয়ের সহায়তায় মরদেহটি মোকাররমের বলে শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মোকাররমের সঙ্গে তাসলিমার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সূত্রে তাসলিমা মোকাররমের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নেন। গত ১৪ মে দুপুরে মোকাররম ওই টাকা ফেরত চান এবং তাসলিমাকে তার স্বামীকে ছেড়ে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। এতে দু’জনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। পুলিশের দাবি, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাসলিমা পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মোকাররমকে খাওয়ান। তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে তাসলিমা, তার বোন হেলেনা ও ভাগ্নি হালিমা আক্তার মিলে মোকাররমকে হত্যা করে। হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশে বাথরুমে নিয়ে মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে খণ্ডিত অংশগুলো কালো পলিথিনে মুড়িয়ে মানিকনগর বালুর মাঠ ও মান্ডার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তাসলিমা মোকাররমের লাগেজ ও তার চার বছরের শিশুকে নিয়ে নরসিংদীতে আত্মগোপনে চলে যান বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে, গত ১৮ মে এই মামলার এক নম্বর আসামি হেলেনা বেগম ও তার মেয়ে হালিমা আক্তারকে গ্রেফতার করে। পরে হেলেনা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিকনগর বালুর মাঠ এলাকা থেকে মোকাররমের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।