অতিবৃষ্টি এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সীমান্ত অঞ্চলের নতুন নির্মাণাধীন সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষি খাতে এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঢলের পানিতে একাধিক সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা স্থানীয়দের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীভাঙনে ফসলি জমিতে বালু জমে নষ্ট হয়েছে আবাদি জমি, ভেসে গেছে শতাধিক মাছের পুকুর এবং আমনের বীজতলা। উপজেলার নাজিরপুর, খারনই ও লেংগুরা ইউনিয়নের নলছাপ্রা বাজার-বালুচড়া সেক্রেড হার্ড উচ্চ বিদ্যালয় সড়কটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের তীব্র পানির প্রবাহে এই সড়কের প্রায় ১০০ ফুট অংশ ধসে গিয়ে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, ফলে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহারকারী শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া জানান, নলছাপ্রা বাজার-বালুচড়া উচ্চ বিদ্যালয় সড়কসহ ইউনিয়নের একাধিক স্থানে ঢলের তীব্র স্রোতে রাস্তা ভেঙে গেছে। চেংনী নদীর পাড় ভেঙে প্রায় ৫০ একর ফসলি জমিতে বালু জমে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও ছোট-বড় শতাধিক পুকুরের মাছ ও আমনের বীজতলা বালু পড়ে নষ্ট হয়েছে। খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবাইদুল হক জানান, পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের একাংশ ভেঙে গেছে এবং বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কাঁচা সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রধান নদী উব্দাখালী নদীর পানি কলমাকান্দা সদর ডাকবাংলো পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্লাবিত হওয়ার ও নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, কারণ প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে হয় তাদের।
রিপোর্টারের নাম 






















