ঢাকা ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

১০ লাখ টাকা দিয়েও মেলেনি বেতন: নওগাঁয় ১১ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষকতা

মানুষ গড়ার কারিগর হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দিয়েছিলেন নার্গিস খাতুন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপে পরিণত হয়েছে। নওগাঁর মান্দা উপজেলায় একটি বালিকা বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েও দীর্ঘ ১১ বছর ধরে কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না তিনি। অভিযোগ উঠেছে, শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এবং ১০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী নার্গিস খাতুন মান্দা উপজেলার গোয়ালমান্দা গ্রামের খোরশেদ আলম শিলালের মেয়ে। তিনি বর্তমানে জোতবাজার আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) হিসেবে কর্মরত। ২০১৫ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে আবেদন করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। সে বছরের ১ আগস্ট তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেন। তবে যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় তার বেতনহীন মানবেতর জীবন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নার্গিস যে পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন, সেখানে আগে থেকেই ইনডেক্সধারী এক শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। অর্থাৎ পদটি আদতে শূন্যই ছিল না। প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ান বিষয়টি গোপন রেখে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ভুয়া নিয়োগ দেন। এমপিওভুক্তির জন্য বছরের পর বছর ঘুরলেও প্রধান শিক্ষক নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। শেষ পর্যন্ত নার্গিস জানতে পারেন, যে পদের বিপরীতে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তার কোনো বৈধ ভিত্তি নেই।

জমি ও গয়না বিক্রি করে কর্মসংস্থানের আশায় মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েছিলেন নার্গিসের পরিবার। বর্তমানে একদিকে চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে, অন্যদিকে পাওনা বেতন না পাওয়ায় চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে দিন কাটছে তার। এই জালিয়াতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কুড়িগ্রামের ৪০ পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ, জিও ব্যাগ বরাদ্দ নেই চরাঞ্চলের জন্য

১০ লাখ টাকা দিয়েও মেলেনি বেতন: নওগাঁয় ১১ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষকতা

আপডেট সময় : ০৫:০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মানুষ গড়ার কারিগর হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দিয়েছিলেন নার্গিস খাতুন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপে পরিণত হয়েছে। নওগাঁর মান্দা উপজেলায় একটি বালিকা বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েও দীর্ঘ ১১ বছর ধরে কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না তিনি। অভিযোগ উঠেছে, শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এবং ১০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী নার্গিস খাতুন মান্দা উপজেলার গোয়ালমান্দা গ্রামের খোরশেদ আলম শিলালের মেয়ে। তিনি বর্তমানে জোতবাজার আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) হিসেবে কর্মরত। ২০১৫ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে আবেদন করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। সে বছরের ১ আগস্ট তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেন। তবে যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় তার বেতনহীন মানবেতর জীবন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নার্গিস যে পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন, সেখানে আগে থেকেই ইনডেক্সধারী এক শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। অর্থাৎ পদটি আদতে শূন্যই ছিল না। প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ান বিষয়টি গোপন রেখে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ভুয়া নিয়োগ দেন। এমপিওভুক্তির জন্য বছরের পর বছর ঘুরলেও প্রধান শিক্ষক নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। শেষ পর্যন্ত নার্গিস জানতে পারেন, যে পদের বিপরীতে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তার কোনো বৈধ ভিত্তি নেই।

জমি ও গয়না বিক্রি করে কর্মসংস্থানের আশায় মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েছিলেন নার্গিসের পরিবার। বর্তমানে একদিকে চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে, অন্যদিকে পাওনা বেতন না পাওয়ায় চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে দিন কাটছে তার। এই জালিয়াতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।